আর্জেন্টিনা ৩২ ম্যাচ টানা অপরাজিত

আর্জেন্টিনা ৩২ ম্যাচ টানা অপরাজিত : ফুটবল বিশ্বে আর্জেন্টিনার জয়রথ যেনো থামছেই না। গত, ১১ মাসে মোট ২ টি আন্তর্জাতিক ট্রফি জিতেছে আর্জেন্টিনা।

কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সামনে পাত্তাই পেলো না ইউরো চ্যাম্পিয়ন ইতালি। দুই মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়নের লড়াইয়ে ৩-০ গোলের সহজ জয় পেলো আর্জেন্টিনা। লাউতারো মার্টিনেজ, অ্যাঞ্জেলো ডি মারিয়া ও পাওলো দিবালার গোলে ফাইনালিসিমা জিতে নিলো আলবিসেলেস্তেরা।

সবশেষ ১৯৯৩ সালে হয়েছিল ফাইনালিসিমা ম্যাচ। সেবার ইউরো চ্যাম্পিয়ন ডেনমার্ককে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। প্রায় ২৯ বছর পর আবারও চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, এবার তারা হারালো ইতালিকে। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা ৩২ ম্যাচ অপরাজিত রইলো আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের স্কোরলাইন হতে পারতো ৫-০, ৬-০ কিংবা আরও বেশি। কিন্তু আর্জেন্টিনার সামনে বারবার দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে গেছেন ইতালির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি ডনারুম্মা। তার শক্ত প্রাচীর ভেদ করেই তিনবার জালের ঠিকানা খুঁজে নিয়েছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

টানা ৩২ ম্যাচ অপরাজিত আর্জেন্টিনা
ফিনালিসিমাতে মেসি

[ আর্জেন্টিনা ৩২ ম্যাচ টানা অপরাজিত ]

গোলের দেখা না পেলেও পুরো ম্যাচে অসাধারণ খেলেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। অল্পের জন্য কয়েকবার গোলবঞ্চিত হয়েছেন তিনি। তবে জোড়া অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। এক গোলের পাশাপাশি মার্টিনেজ করেছেন একটি অ্যাসিস্ট।

ইতালিকে এই ফাইনালিসিমায় হারানোর মাধ্যমে এক বছরের ব্যবধানে দুইটি আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতে নিলো আর্জেন্টিনা। ১৯৯৩ সালের কোপা আমেরিকার পর মাঝের ২৮ বছর তাদের ছিল না কোনো শিরোপা। গতবছর কোপা জেতার পর এবার ফাইনালিসিমা জিতলেন মেসিরা।

তিন গোলে জেতা ম্যাচটিতে কোনো গোল না করলেও দুইটি অ্যাসিস্টের পাশাপাশি চোখধাঁধানো নৈপুণ্যে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নিয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক মেসি।

ম্যাচ শেষে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানিয়েছেন, যেকোনো দলকে মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত তার দল। ইতালির মতো দারুণ দলকে হারিয়ে ফাইনালিসিমা জেতায় আনন্দটা আরও বেশি বলে মন্তব্য করেছেন মেসি। সবমিলিয়ে দারুণ অভিজ্ঞতার কথাই জানালেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

মেসি বলেছেন,

‘আমরা এখানে এসেছি যেকোনো দলকে মোকাবিলা করতে। আজকের পরীক্ষাটি দারুণ ছিল কারণ ইতালি খুব ভালো দল। আমরা জানতাম ম্যাচটি খুব ভালো হতে চলেছে এবং শেষ চ্যাম্পিয়ন হতে পারায় খুবই আনন্দিত।”

লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পুরো ম্যাচেই ‘আর্জেন্টিনা, আর্জেন্টিনা’ কিংবা ‘মেসি, মেসি’ স্লোগানে মুখর ছিলেন তারা। সমর্থকদের এ সরব উপস্থিতি অনুপ্রাণিত করেছে মেসিদের।

টানা ৩২ ম্যাচ অপরাজিত আর্জেন্টিনা
ফাইনালিসিমাতে দ্বিতীয় গোলের পর ডি মারিয়া

মাঠে উপস্থিত দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক বলেছেন,

‘এটি অসাধারণ এক ফাইনাল ছিল। পুরো মাঠভর্তি আর্জেন্টাইন (সমর্থক), কী অসাধারণ অভিজ্ঞতা! আমরা এখানে খুবই সুন্দর সময় কাটালাম।’

আর্জেন্টিনা ফাইনালিসিমা জেতানোর পেছনে বড় অবদান রেখেছেন লাউতারো মার্টিনেজ। মেসির পাস থেকে প্রথম গোল করার পর অ্যাঞ্জেলো ডি মারিয়াকে দ্বিতীয় গোল বানিয়ে দিয়েছেন এ তারকা ফরোয়ার্ড। তার মতে, এ শিরোপা অমূল্য।

মার্টিনেজ বলেছেন,

‘সত্যি বলতে, এটি অমূল্য। আমরা নিজেদের নিয়ে অনেক খুশি, এই ম্যাচ কিংবা এই দল নিয়ে আমরা আনন্দিত। জয়ের প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে এমন অভিজ্ঞতা খুবই সুন্দর। আমরা সবসময় সমর্থকদের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করি। এটি বাড়তি সাহস জোগায়।’

টানা ৩২ ম্যাচ অপরাজিত আর্জেন্টিনা
তৃতীয় গোলের পর পাওলো দিবালা

ইউরো চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে হারিয়ে ফাইনালিসিমা জিতে নিয়েছে কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এ নিয়ে টানা ৩২ ম্যাচ অপরাজিত রইলো আলবিসেলেস্তেরা। সবশেষ ২০১৯ সালের জুলাইয়ে কোনো ম্যাচ হেরেছিলেন লিওনেল মেসি, অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ারা।

যা কি না আর্জেন্টিনার নিজেদের রেকর্ড। এর আগে ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৫ পর্যন্ত ৩১টি ম্যাচ অপরাজিত ছিল তারা। এবার লিওনেল স্কালোনির অধীনে সেই রেকর্ড ভেঙে দিলো মেসির আর্জেন্টিনা। এ রেকর্ড গড়া কিংবা ফাইনালিসিমা জেতার পরেও উচ্ছ্বাসে ভেসে যেতে রাজি নন স্কালোনি।

১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি আর্জেন্টিনা। তাই গতবছর কোপা আমেরিকা কিংবা এবার ফাইনালিসিমা জিতলেও, স্কালোনির চোখ মূলত বিশ্বকাপ শিরোপায়। এখনের ফর্ম ও সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে বিশ্বকাপকেই মূল লক্ষ্য হিসেবে ধরেছেন আর্জেন্টিনা কোচ।

উচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়ার আগে নিজ দলকে সতর্ক করে স্কালোনি বলেছেন,

‘বিশ্বকাপ আলাদা জিনিস। আমরা যদি মনে করি কাজ শেষ, তাহলেই বড় সমস্যা হয়ে যাবে। বিশ্বকাপ এটি থেকে পুরোপুরি আলাদা। সেখানে চাপ থাকবে পুরোপুরি ভিন্ন। আমাদেরকে সেটি মোকাবিলা করতে হবে।’

তবে নিজ দলের প্রশংসা করতেও ভোলেননি আর্জেন্টিনার কোচ। মেসি-ডি মারিয়াদের কাছ থেকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেছেন,

‘আমি চাই দলটা সবসময় এমনই থাকুক। বিশ্বকাপের জন্য যত কমতিই থাকুক না কেন, যখন আমাদের দেখা হবে, আমরা যেনো একইভাবে এগিয়ে যাই।’

লন্ডনের ওয়েম্বলিতে উপস্থিত সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্কালোনি বলেছেন, ‘আমাদের জন্য বড় বিষয় হলো, মানুষজন খেলাটি উপভোগ করছে। এটিই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কঠিন সময়েও সমর্থকরা দলের খেলা পছন্দ করছে- এটিই বড় জিনিস।’

আরও পড়ুন:

মন্তব্য করুন