এবি ডি ভিলিয়ার্স [ AB de Villiers ] ক্রিকেট রাজ্যের এক মুকুটবিহীন রাজপুত্র

এবি ডি ভিলিয়ার্স [ AB de Villiers ] ক্রিকেট রাজ্যের এক মুকুটবিহীন রাজপুত্র !!!

এবি ডি ভিলিয়ার্স [ AB de Villiers ] নামটি আমাদের মনে এনে দেয়, ৩৬০ ডিগ্রী অ্যাংগেলে উইকেটের চারপাশে খেলা হরেক রকমের শট। এবি ডি ভিলিয়ার্স [ AB de Villiers ] নিজের ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ারে কোনো আন্তর্জাতিক ট্রফি না জিতলেও যতদিন পর্যন্ত ক্রিকেট খেলে গেছেন ঠিক ততদিন পর্যন্ত ভক্তদের মাঝে স্টাইলিশ ব্যাটিং এবং মডার্ণ ডে ক্রিকেটীয় শটের আনন্দ দিয়ে গেছেন।

এক সময়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সব ফরমেটে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অধিনায়কত্ব করেছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স [ AB de Villiers ] । ব্যাটিংয়ে নিজের ধারাবাহিকতা এবং অতি আক্রমণাত্মক ব্যাটিং, এ সব কিছুই ডি ভিলিয়ার্স কে একজন মডার্ণ ডে কিংবদন্তিতে রুপান্তরিত করেছে।

এবি ডি ভিলিয়ার্স : ক্রিকেট রাজ্যের এক মুকুটবিহীন রাজপুত্র
আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করার এবি ডি ভিলিয়ার্স

এবি ডি ভিলিয়ার্স ১৯৮৪ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ার্মবেড শহরে জন্মগ্রহন করেন। স্কুলজীবন থেকেই ক্রিকেটসহ বিভিন্ন রিকম খেলায় পারদর্শি ছিলনে ডিভিলিয়ার্স। এবি ডি ভিলিয়ার্সের ঘরোয়া ক্রিকেটে অভিষেক হয় ২০০৩ সালে টাইটানসের হয়ে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অভিষেক ঘটে ২০০৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে। সে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ওপেনিংয়ে ব্যাট করার পর দ্বিতীয় ম্যাচে দলের প্রয়োজনে উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব পালন করতে হয় এবি ডি ভিলিয়ার্সকে। সে ম্যাচে , ৭ নম্বর পজিশনের ব্যাট করে একটি ম্যাচ সেভিং হাফ সেঞ্চুরি করে দলকে পরাজয়ের মুখ থেকে বের করে নিয়ে আসেন এবি ডি ভিলিয়ার্স।

[ এবি ডি ভিলিয়ার্স : ক্রিকেট রাজ্যের এক মুকুটবিহীন রাজপুত্র ]

এরপর, উইন্ডিজের বিপক্ষে ১টি টেস্টে ১৭৮ রানের এক চমৎকার ইনিংস খেলেন এবি ডি ভিলিয়ার্স যা দক্ষিণ আফ্রিকাকে সে সিরিজ জিততে সাহায্য করে। ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে দ্বিতীয় দ্রুততম ১০০০ রান করার মাইলফলক স্পর্শ করেন ডি ভিলিয়ার্স।

এবি ডি ভিলিয়ার্সঃ ক্রিকেট রাজ্যের এক মুকুটবিহীন রাজপুত্র
ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজের অভিষেক সেঞ্চুরির পর এবি ডি ভিলিয়ার্সা

২০০৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে, উইন্ডিজের বিপক্ষে নিজের আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করে ডি ভিলিয়ার্স। সে বিশ্বকাপে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচে মাইটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯২ রানের একটি সুদর্শন ইনিংস খেলেন তিনি। তবে, সে বিশ্বকাপে অনেকটাই অধারাবাহিক ছিলেন ডি ভিলিয়ার্স। সে বিশ্বকাপে মোট চারটি ম্যাচে শূন্য রানে আউট হন এবিডি।

২০০৮ সালে , ভারতের বিপক্ষে টেস্টে ২১৭ রান করে প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটার হিসেবে ভারতের বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি করেন ডি ভিলিয়ার্স। একই বছর, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচজয়ী ১৭৪ রান করেন ডি ভিলিয়ার্স। ২০০৯ সালে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে আরেকটি ম্যাচজয়ী সেঞ্চুরি করে  ৪১৪ রানের টার্গেট চেজ করে জয়লাভ করে দক্ষিণ আফ্রিকা।

২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপে, প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটার হিসেবে এক ওয়ার্ল্ড কাপে ২টি সেঞ্চুরি করেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। সে বিশ্বকাপে, ১৩৬.৭৩ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স।

২০১১ বিশ্বকাপে সেঞ্চুরির পর এবি ডি ভিলিয়ার্স
২০১১ বিশ্বকাপে সেঞ্চুরির পর এবি ডি ভিলিয়ার্স

২০১১ সালের ৬ জুন, দক্ষিণ আফ্রিকার সীমিত ওভারের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। ২০১১ থেকে ২০১৪ সালে, আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে ৬৬ ম্যাচ খেলে ৬৩.০৮ গড়ে ৩১৫৪ রান করেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। এই একই সময়ে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে ৩২ ম্যাচে ৫৮.৬৩ গড়ে ২৭৫৬ রান করে এবি ডি ভিলিয়ার্স।

২০১৫ সালে ব্যাক্তিগত অর্জনের দিক দিয়ে, ব্যাট  আরেক অবিস্মরণীয় বছর কাটান এবি ডি ভিলিয়ার্স। সে বছর উইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরি এবং হাফ সেঞ্চুরি করেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে, এবি ডি ভিলিয়ার্স ৯৬ গড় এবং ১৪৪.০০ স্ট্রাইক রেটে ৪৮২ রান করেন। এবি ডি ভিলিয়ার্স, সে বিশ্বকাপে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন।

এবি ডি ভিলিয়ার্সের নেতৃত্বে সে বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা সেমি ফাইনালে পৌছায় এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ মুহুর্তের নাটকীয়তায় ফাইনালে উঠার স্বপ্নভঙ্গ হয় দক্ষিণ আফ্রিকার। তবে, সে বিশ্বকাপে ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট হন এবি ডি ভিলিয়ার্স। সে ওয়ার্ল্ড কাপ শেষে , আইসিসি ওয়ানডে ব্যাটারদের র‍্যাংকিংয়ে ১ নম্বর স্থানে অবস্থান করেন এবি ডি ভিলিয়ার্স।

২০১৫ বিশ্বকাপে সেঞ্চুরির পর এবি ডি ভিলিয়ার্স
২০১৫ বিশ্বকাপে সেঞ্চুরির পর এবি ডি ভিলিয়ার্স

২০১৬ সালের ৬ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেট থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক পদ থেকে হাশিম আমলা সরে দাড়ালে, টেস্ট দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্বও কাধে পড়ে এবি ডি ভিলিয়ার্সের।২০১৮ সালের ২৩ মে ,সব ধরণের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও এরপরে বেশ কয়েকবছর ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। যদিও, ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে প্রথম তিন ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকার পরাজয়ের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবারো ফেরার ইচ্ছা পোষণ করলে , তৎকালীন প্রোটিয়া কোচ ওটিস গিবসনের কারণে তা সম্ভব হয় নি।

আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে ১১৪ ম্যাচে ৫০.৬৬ গড়ে ৮৭৬৫ রান করে এবি ডি ভিলিয়ার্স যেখানে রয়েছে ২২টি সেঞ্চুরি এবং ৪৬টি হাফ সেঞ্চুরি। এছাড়াও, আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে ২২৮ ম্যাচে ৫৩.৫০ গড়ে ২৫ সেঞ্চুরি এবং ৫৩ হাফ সেঞ্চুরির বিনিময়ে ৯৫৭৭ রান করেন ।

মাত্র কিছুদিন আগে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটগুলো থেকেও অবসর গ্রহণ করেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। নিজের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ারে কোনো ট্রফি না জিততে পারলেও, এবি ডি ভিলিয়ার্স [ AB de Villiers ] তার ভক্তদের মাঝে হয়ে থাকবেন এক মুকুটবিহীন রাজপুত্র।

আরো পড়ুনঃ

বিশ্বের অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের তুলনায় আইপিএলেই বাংলাদেশীরা অবহেলিত

“এবি ডি ভিলিয়ার্স [ AB de Villiers ] ক্রিকেট রাজ্যের এক মুকুটবিহীন রাজপুত্র”-এ 2-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন