ওয়েইন পার্নেলঃ ওয়ান অব দ্য মোস্ট আন্ডাররেটেড পেসার

দক্ষিণ আফ্রিকার আন্ডারেটেড খেলোয়াড়দের নাম তুললে প্রথম কাতারেই আসবে ওয়েইন পার্নেলের নাম। হ্যা, এক সময়ের দক্ষিণ আফ্রিকার  সম্ভাবনাময় ফাস্ট বোলিং অলরাউন্ডার ওয়েইন পার্নেল এখন কেমন যেনো হারাতে বসেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের লাইমলাইট থেকে। তবে, সম্প্রতি শেষ হওয়া বাংলাদেশের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ানডে সিরিজে অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি।

ওয়েইন পার্নেলঃ ওয়ান অব দ্য মোস্ট আন্ডাররেটেড পেসার

 

 ওয়েইন পার্নেল দক্ষিণ আফ্রিকার পেস বোলিং অলরাউন্ডার। পাকিস্তানি ক্রিকেটার ইউসুফ ইউহানার পর অন্য ধর্ম ছেড়ে ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্র্য গ্রহণ করা দ্বিতীয় ক্রিকেটার হলেন ওয়েইন। ২০১১ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন পার্নেল। ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার পর, তার নাম ছিলো ওয়েইন ওয়ালিদ পার্নেল।

পার্নেলের ক্রিশ্চিয়ান ধর্ম থেকে মুসলিম হওয়ার পেছনে অনেকে হাশিম আমলাকে কারণ হিসেবে ভাবলেও, এক সময়ের দক্ষিণ আফ্রিকা দলের টিম ম্যানেজার মোহাম্মদ মোসাজি এই গুঞ্জন একেবারেই উড়িয়ে দেন। কিন্তু, না। অনেক দিন ধরেই ওয়েইন পার্নেল ইসলাম ধর্ম নিয়ে খুব গভীরভাবে ভাবছিলেন এবং এ কারণেই তিনি ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ইসলাম ধর্মের শান্তিপূর্ণ দিক পার্নেলকে সব থেকে আকৃষ্ট করে। এমনকি, দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বাকি মুসলিম খেলোয়াড়দের মতো তিনিও অ্যালকোহল থেকে নিজের দুরত্ব বজায় রেখেছিলেন।

দীর্ঘদিন ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেট লীগ দাপিয়ে বেড়ানো কাউন্টি ক্রিকেটের পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচো খেলেছেন বেশ কয়েকটি। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে তিনি মোট ৭৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১১০টি উইকেট নিয়েছেন।

বাংলাদেশের বিপক্ষে সম্প্রতি শেষ হওয়া ওয়ানডে সিরিজেও দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সি গায়ে জড়িয়ে খেলেছেন তিনি।

ওয়েইন পার্নেলঃ ওয়ান অব দ্য মোস্ট আন্ডাররেটেড পেসার

দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য এই ওয়েন পার্নেল। বামহাতি এই মিডিয়াম ফাস্ট বোলার অতি সহজেই তার দূর্বার গতিতে বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের ধরাশায়ী করে দিতে পারেন। অনেকেই তাকে তার খেলার ধরণ দেখে চিনলেও অনেকেই হয়তো জানেন না যে তিনি ইসলামে পরিবর্তিত হয়েছেন। এই ঘটনারই অন্তরালে যাওয়া যাক।

ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি ওয়ারিয়র্স ও কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্টের হয়ে নিয়মিত ক্রিকেট খেলেন ওয়েন। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের মাধ্যমে গোড়াপত্তন ঘটে ও পরবর্তীকালে পুনে ওয়ারিয়র্স দলে খেলেন। ২০১৪ সালের আইপিএল নিলামে তিনি পুণরায় ১ মিলিয়ন রূপির বিনিময়ে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন।

২০০৬ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের দক্ষিণ আফ্রিকা দলের পক্ষে খেলেন। এরপর ২০০৮ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মনোনীত হন। প্রতিযোগিতায় তিনি সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ৮.৩৮ রান গড়ে ১৮ উইকেট লাভ করেছিলেন পার্নেল।

কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের বিপক্ষ আট রানের বিনিময়ে ৬ উইকেটসহ ৫৭ রানের সর্বোচ্চ স্কোর তুলেন। ইসলামে পরিবর্তিত হওয়া : ২০১১ সালের জানুয়ারি সালেই তিনি ইসলাম ধর্ম মেনে নিলেও তিনি জুন ১০ তারিখ সকলের সামনে এই কথাটি ঘোষণা দেন।

তার নতুন নাম হিসেবে তিনি ‘ওয়ালিড’ নামটি বেছে নিয়েছিলেন বলেও ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেসময় তার এই ঘোষণাকে নিয়ে বেশ জল্পনা কল্পনা হয়েছিল। অনেকের মতে, দক্ষিণ আফ্রিকার হাশিম আমলা এবং ইমরান তাহিরই তাকে ইসলাম ধর্ম মেনে নিতে বাধ্য করেছেন।

ওয়েইন পার্নেলঃ ওয়ান অব দ্য মোস্ট আন্ডাররেটেড পেসার

তবে এই ধারণাটিকে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘যদিও আমি আমার নাম ওয়ালিড ঠিক করেছি, আমি চাই সকলে আমাকে আমার আগের নামেই ডাকুক। আমি আমার দলের সকল কিছুতে সবসময় এগিয়ে থাকবো।

আমার মূল লক্ষ্য থাকবে দলের জন্য সেরাটা দেওয়া। যেহেতু রোজার সময় চলে আসছে, আমি চাই সকলেই আমার এই সিদ্ধান্তটিকে ইতিবাচকভাবে নিক।

আমি একজন পেশাদার ক্রিকেটার, এবং এরকম জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মত ক্ষমতা আমার আছে। এই সিদ্ধান্তে দলের কোন সদস্য অথবা আমাকে উদ্বুদ্ধ করেনি। আমি নিজেই আমার জন্য ভালোটা বেছে নিয়েছি।’

ওয়েইন পার্নেলঃ ওয়ান অব দ্য মোস্ট আন্ডাররেটেড পেসার

যদিও তিনি তার ধর্ম পরিবর্তন করার কোন কারণ তুলে ধরেননি, একটি ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গিয়েছিল যে তিনি নিয়মিত মুসলিম বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আড্ডা দিতেন। সেখান থেকেই তিনি ইসলামের আলোতে আলোকিত হন এবং এই ধর্মে উৎসাহী হয়ে পড়েন। এরপর তিনি আরও বহুদিন এই ধর্মকে অনুসরণ করে অবশেষে জানুয়ারিতে ধর্ম পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেন।

আরও দেখুনঃ

মন্তব্য করুন