কানাডার বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তন ৩৬ বছর পর

কানাডার বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তন ৩৬ বছর পর !

৩৬ বছর পর আবারো ফুটবল বিশ্বকাপ খেলবে কানাডা। এর আগে, ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশগ্রহণ করেছিল কানাডা। ১৯০৪ সালে অলিম্পিকে স্বর্ণ জেতা কানাডা দল, এর আগে মাত্র ১ একবার ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেছে।

এর আগে, উত্তর আমেরিকা অঞ্চল থেকে  মেক্সিকো, কোস্টারিকা এবং যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল বিশ্বকাপে নিয়মিত  অংশগ্রহণ করতো। কিন্তু, আসন্ন কাতার বিশ্বকাপে, এ ছবির বদল এসেছে। এবার, কানাডা অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে তাদের বদলে। রোববার রাতে টরোন্টোতে জ্যামাইকাকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে কাতারের টিকিট কেটেছে কানাডিয়ানরা।

উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডার বিশ্বকাপে খেলা একরকম নিশ্চিতই ছিল এবার। কনক্যাকাফ অঞ্চলের বাছাইপর্বের শীর্ষে থাকা কানাডাকে নিয়ে যা একটু সন্দেহ ছিল, তা আসলে গাণিতিক মারপ্যাঁচের হিসাব। তবে জন হার্ডম্যানের শিষ্যরা গণিতের মারপ্যাঁচটুকুও দূর করে দিয়েছে কাল। কনক্যাকাফ অঞ্চলের বাছাইপর্বের ম্যাচে জ্যামাইকার বিপক্ষে ৪-০ গোলে জয় পেয়েছে কানাডা। তাতে ১৯৮৬ সালের পর আর কোনো বাধা রইল না বিশ্বকাপে খেলার।

কানাডার বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তন ৩৬ বছর পর
গোল করার পর কানাডা খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস

জ্যামাইকার সঙ্গে ম্যাচে নিরঙ্কুশ ফেভারিট ছিল কানাডাই। উত্তর ও মধ্য আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে এই ম্যাচের আগেই কমপক্ষে প্লে-অফে খেলাটা নিশ্চিতই ছিল কানাডার। তবে বিশ্বকাপে খেলার জন্য হিসাবের মারপ্যাঁচে ভরসা করতে ইচ্ছুক ছিল না কানাডিয়ানরা। তাই বাছাইপর্বের পয়েন্ট তালিকার সাতে থাকা জ্যামাইকাকে ম্যাচে দাঁড়াতেই দেননি ডাভিডরা।

এই ম্যাচে গোল পেয়ে কনক্যাকাফ অঞ্চলের বাছাইপর্বের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন কাইল লারিন। ৬ গোল নিয়ে তিনি পেছনে ফেলেছেন লিগ ওয়ান চ্যাম্পিয়ন লিলেতে খেলা স্বদেশি ফরোয়ার্ড জোনাথন ডাভিডকে।

এবারের বাছাইপর্বের শুরু থেকেই উড়ছিল কানাডা। বাছাইপর্বের তৃতীয় রাউন্ড থেকেই শীর্ষে  ছিল তারা। আট দলের গ্রুপে তাদের কঠিন প্রতিপক্ষ ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো। কিন্তু এই দুই দলের সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ে ৪ পয়েন্ট আদায় করে নিয়েছিল তারা। গোটা বাছাইপর্বের ষষ্ঠ রাউন্ড পর্যন্ত অপরাজিত ছিল কানাডা। সপ্তম রাউন্ডে এসে অপ্রত্যাশিতভাবে কোস্টারিকার সঙ্গে হেরে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলো তাদের।

[ কানাডার বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তন ৩৬ বছর পর ]

৩৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের আসরে খেলবে কানাডা। যার ফলে, বিশ্বকাপ খরা অবশেষে কাটল। জামাইকাকে ৪-০ গোলে হারাতেই উৎসব শুরু হয়ে যায় টরোন্টোয়। দলের প্রধান ফুটবলার আলফান্সো ডেভিড মাঠে না থাকলেও টিভিতে চোখ রেখেছিলেন। দলের জয়ের পর আনন্দে কেঁদে ফেলেন তিনি। মেক্সিকো বিশ্বকাপে শেষ বার খেলেছিল কানাডা। সেই বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। এর পর আর বিশ্বকাপ জেতেনি আর্জেন্টিনা। কানাডাও আর বিশ্বকাপের টিকিট পায়নি। মেক্সিকো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রদের টপকে লিগ টেবিলে সবার উপরে শেষ করে কানাডা।

কনকাকাফে প্রথম তিন দল সরাসরি পৌঁছে যাবে বিশ্বকাপে। ১৩ ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থানে কানাডা। কানাডার গোলদাতা কাইল ল্যারিন, তাজোন বুকানান, জুনিয়র হয়লেট। আর একটি গোল আসে জামাইকার আদ্রিয়ান মারিয়াপ্পার আত্মঘাতী গোল থেকে। প্রথম থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে কানাডা। ১৩ মিনিটেই ল্যারিনের গোলে এগিয়ে যায়। ৪৪ মিনিটে দ্বিতীয় গোল বুখানান। ৮২ মিনিটে ৩-০ করেন হয়লেট। ৮৮ মিনিটে শেষ গোলটি আসে। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পরই উৎসবে মেতে ওঠে বিএমও ফিল্ডে উপস্থিত দর্শকরা। কানাডার ফুটবলাররাও সেলিব্রেশনে মাতেন।

৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তন কানাডার
কানাডার দর্শকদের উচ্ছ্বাস

‘আমি শুরুতে যখন দায়িত্ব নিই, তখন বলেছিলাম, “আমরা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে যাচ্ছি।” আমার মনে হয় না তারা (ভক্তরা) আমাদের বিশ্বাস করেছিল। আমি তাদের জন্য আনন্দিত। কারণ, এই ভক্তরা অপেক্ষার পর অপেক্ষা করেছে এবং আমাদের সঙ্গে থেকেছে। আর এবার আমরা যাচ্ছি (বিশ্বকাপে)।’

কাতার বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে আবেগঘন কথাগুলো বলেন কানাডা কোচ জন হার্ডম্যান। দীর্ঘ অপেক্ষার ইতি টেনে ৩৬ বছর পর ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে খেলার টিকিট পেয়েছে উত্তর আমেরিকার দেশটি। অতীতে কেবল একবারই তারা খেলেছিল বিশ্বকাপে, ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোত অনুষ্ঠিত আসরে।

গণমাধ্যমের কাছে ইংলিশ কোচ হার্ডম্যান আরও জানান, ‘আমরা মাত্রই বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছি। এই দেশটি সত্যিকার অর্থেই ফুটবলপাগল।… আমি মনে করি, এই দেশটি কখনোই আমাদের (ফুটবল দলের) ওপর বিশ্বাস রাখতে পারেনি। কারণ, আমরা তাদেরকে বিশ্বাস রাখার মতো কোনো রসদ দিতে পারিনি। এখন তারা বিশ্বাস করছে।’

অন্যদিকে পানামাকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে কাতার বিশ্বকাপে পৌঁছে গেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও। দুরন্ত হ্যাটট্রিক করেন ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ। খেলার ১৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে প্রথম গোল চেলসির ফুটবলারের। ২৩ মিনিটে পল অ্যারিওলা আর ২৭ মিনিটে জেসুস ফেরেইরা ৩-০ করেন। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন পুলিসিচ। ৬৫ মিনিটে হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেন তিনি। ১৩ ম্যাচে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও, কাতার বিশ্বকাপের মূলপর্বে পৌঁছে গেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

আরও পড়ুন:

স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল : ফুটবল দিয়েই মুক্তিযুদ্ধ [ Shadhin Bangla Football Team, 1971]

ফিফা বিশ্বকাপ

মন্তব্য করুন