গারিঞ্চা [ Garrincha ] ; খামখেয়ালি রাজা

গারিঞ্চা [ Garrincha ] ; খামখেয়ালি রাজা : ১৯৫৮ বিশ্বকাপ, সুইডেন। গ্রূপ অব ডেথে ব্রাজিলের সঙ্গী শক্তিশালী অস্ট্রিয়া, ইংল্যান্ড আর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। বাঁচামরার ম্যাচে একসঙ্গে বিশ্বমঞ্চে অভিষেক দুই ওয়ান্ডার কিড পেলে আর গারিঞ্চার। দায়িত্বহীনতার প্রবল অভিযোগে প্রথম দুই ম্যাচে মাঠে নামা হয়নি তার, অবশেষে তৃতীয় ম্যাচে সুযোগ আসে। সামনে প্রতিপক্ষ সায়েন্টিফিক ফুটবলের প্রতীক সোভিয়েত ইউনিয়ন। সর্বকালের সেরা গোলরক্ষক লেভ ইয়াসিনের সামনে পরীক্ষা নিবেন কিনা দুই আনকোড়া, ব্রাজিলিয়ান কোচের এমন পরিকল্পনায় হয়তো হাসির রব উঠে গেছিল প্রতিপক্ষ শিবিরে!

খামখেয়ালি রাজা - গারিঞ্চা [ Garrincha ]
গারিঞ্চা; খামখেয়ালি রাজা
ব্রাজিলের ডেরায় হয়তো পড়েছিল চিন্তার ভাঁজ! কোচরা নাকি হন অন্তর্যামী, শিষ্যদের মন তাদের থেকে কে আর ভালো পড়তে পারে? পেলে আর গারি.ঞ্চা যদি হন খাঁটি হীরা, তাদের খুঁজে বের করে শানিত করা পাকা জুহুরী তাহলে ভিনসেন্ট ফেওলা।

ভাগ্য নাকি সাহসীদের পক্ষে থাকে, ইংরেজি প্রবাদের জ্বলন্ত উদাহরণ ব্রাজিল বস। তবে ম্যাচের শুরুতেই দুই তরুণ যা করেছেন তা হয়তো স্বপ্নেও ভাবেননি তিনি, ভাবেনি কেউই, ভাবেনি পুরো ফুটবলবিশ্ব। তারা নেমেছে, নেমেই সৃষ্টি করেছে ইতিহাস। যে ইতিহাসের নাম ফুটবলবিশ্ব দিয়েছে, “দ্যা গ্রেটেস্ট থ্রি মিনিটস ইন ফুটবল হিস্টোরি!”

কিক-অফের বাঁশি বাজার পর গারিঞ্চা যখন বল পান তখন ম্যাচের বয়স মাত্র বিশ সেকেন্ড, সে যখন বল হারালেন তখন ঘড়ির কাঁটা স্পর্শ করেছে চল্লিশ সেকেন্ড। মনে হতে পারে মাত্র বিশ সেকেন্ড, কিন্ত এই বিশ সেকেন্ডে একপ্রকার লেখা হয়ে গেছে রূপকথা, যে গল্পের নায়ক গারিঞ্চা।

কুনেতবকে তিনবার ভূপাতিত করে শুরু, এরপর মাঠের ডানপাশে তড়িৎ গতিতে ঢুকে গেলেন, পিছনে ফেললেন তিনজনকে। তিনজনকে কাটিয়ে প্রায় জিরো অ্যাঙ্গেলে যে শট নেন গারিঞ্চা যা ইয়াসিনের বাঁ দিকের পোস্টে প্রতিহত হয় গোল কিকের বিনিময়ে। মাঝমাঠে ফিরে এলেন তিনি, অন্যসবাই হলে হয়তো ফিরতেন বিমূর্ষ হৃদয়ে। কিন্তু তিনি অন্য ধাতুতে গড়া, একেকটা ব্যর্থতা যেন তার কাছে সফলতার দুয়ার উন্মোচন।

গারিনঞ্চা বিশ্বকাপের সময় ১৯৬২, বাঁকানো পায়ের ইশ্বর, Garrincha 1962
গারিনঞ্চা বিশ্বকাপের সময় ১৯৬২, বাঁকানো পায়ের ইশ্বর, Garrincha 1962

পরের মিনিটে আবার বল পেলেন, আবারো ছেলেখেলা করলেন কুনেতবকে নিয়ে। ডিডি বল চাইলেন, সাধারণ কেউ হলে হয়তো তাকেই দিতেন। কিন্তু অসাধারণ গারিঞ্চা সেই বল কোনাকুনি পাসে বাড়ালেন পেলের উদ্দেশ্যে, ম্যাচে পেলের প্রথম টাচ তো বটেই বিশ্বমঞ্চ প্রথমবারের মতো পেল ফুটবল ঈশ্বরের পায়ের ছোঁয়া।

পেলে বাড়ালেন ভাভার উদ্দেশ্য, ভাভা থেকে ডিডি হয়ে আবারও বলের ঠিকানা গারিঞ্চা। গারিঞ্চা থেকে আবার পেলে, পেলের শট প্রতিহত, ঠিক যেভাবে গারিঞ্চার কপাল পুড়েছিল। পোস্টে লেগে উপর দিয়ে চলে যায় বল।আবারো গোলবঞ্চিত ব্রাজিল।

পরের মিনিটে ভাভার গোল, ফলাফল ১-০ তে এগিয়ে ব্রাজিল। সেই তিন মিনিট পেলে আর গারিঞ্চা, বিশেষ করে গারিঞ্চা সোভিয়েত ডিফেন্স কে এতোটাই ব্যস্ত রেখেছিলেন, বলা যায় একপ্রকার ছেলেখেলায় মেতেছিলেন যে ফুটবল ইতিহাসে সেই ৩ মিনিটকে আখ্যায়িত করা হয় ‘ফুটবল ইতিহাসের সেরা তিন মিনিট’ হিসেবে।

শুধুই কি তাই, ব্রাজিলের এত এত জয়ের গল্প, কিংবা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া, সবকিছুর নেপথ্যে এই তিন মিনিট। যে তিন মিনিটে নিজেদেরকে নতুন করে চিনেছে তারা, আর তার নেপথ্যে ছিল গারিঞ্চা এন্ড কোং।

এই গারিঞ্চাই কিনা খেলেননি প্রথম দুই ম্যাচে! ইতিহাস সৃষ্টি করা গারিঞ্চা কেন আগের দুই ম্যাচে ছিলেন বেঞ্চে, তা আরেক ইতিহাস। তার বিরুদ্ধে নাকি দায়িত্বজ্ঞানহীনতার গুরুতর অভিযোগ! বিশ্বকাপের এক মাস আগে ব্রাজিলের হয়ে ইতালিতে খেলতে গিয়েছিলেন ইতালিয়ান ক্লাব ফিওরেন্তিনার বিপক্ষে।

যা ছিল আবার সুইডেন বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের শেষ অ্যাসাইনমেন্ট। সেই ম্যাচে প্রতিপক্ষের চার ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে যে গোলটি করেছিলেন, সেটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা গোল। পরে আরও একটি গোল করেছিলেন, মূলত সেই গোল নিয়েই বাঁধে যত বিপত্তি! ‘ডামি’ গোল করাকে আগে থেকেই বানিয়েছিলেন শিল্প, গারিঞ্চার দ্বিতীয় গোল যেন ছিল সেটারই নমুনা।

স্বাগতিক তিন ডিফেন্ডার রোবোত্তি, মাজনিনি ও সারভাতোকে ড্রিবলিংয়ে পেছনে ফেলেছেন, সামনে প্রতিহতের দেয়াল শুধুই গোলকিপার সার্তে। তাকেও ‘ডামি’ করে ফেললেন পেছনে। সামনে পড়ে আছে জনশূন্য ফিওরেন্তিনার জাল। অন্য কেউ হলে কী করতেন? আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে ফেটে পড়তেন বাঁধভাঙা উল্লাসে! এর বাইরে অন্য কিছু তো নয়ই।

গারিনঞ্চা বিশ্বকাপের সময় ১৯৬২, বাঁকানো পায়ের ইশ্বর, Garrincha 1962
গারিনঞ্চা বিশ্বকাপের সময় ১৯৬২, বাঁকানো পায়ের ইশ্বর, Garrincha 1962

কিন্ত গারিঞ্চা যে অন্য ধাতুতে গড়া। যার জীবনটাই যে খেলা, সে খেলার মাঠেও সবাইকে নিয়ে খেলবে এটাই স্বাভাবিক।

গোলকিপারকে কাটানোর পর পেছনে ফিরে দেখলেন ছুটে আসছেন রোবোত্তি, হয়তো শেষ একটা সুযোগের জন্য। সুযোগ ঠিকই দিলেন গারিঞ্চা, পোস্টে শট না নিয়ে অপেক্ষা করলেন, রোবোত্তিকে সেই সুযোগটা দিতে! এবার আবারো ডামি, এবার রোবোত্তির ঠিকানা পোস্টে লুটিয়ে পড়া!

তাল সামলাতে না পেরে বেসামাল রোবোত্তি গড়াগড়ি খেলেন গোলবারে। এরপর আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে গারিঞ্চা এমন ভাব ধরলেন যেন মনে হবে এটাই হওয়ার ছিল, এটাই যেন নিয়তি। এমন যেন, এছাড়া গারিঞ্চার আর কিছুই করার ছিল না! গারিঞ্চা হয়তো মজা পেয়েছিলেন, কিন্ত গারিঞ্চার এই ছেলেমানুষি সতীর্থদের অন্তরে ক্রোধের উদ্রেক ঘটায়।

হারজিত যেসব ম্যাচে ব্যবধান গড়ে, সেসব ম্যাচে কারো এমন সার্কাস কিংবা কার্টুন কেই-বা মেনে নিবে হাসিমুখে? মেনে নেননি ব্রাজিল বস। মনের মধ্যে রাগ পুষে রেখেছেন, ইতালি থেকে ব্রাজিল হয়ে এই রাগ বয়ে নিয়ে গেছেন সুদূর সুইডেন পর্যন্ত, প্রথম দুই ম্যাচে তাই গারিঞ্চার সুযোগ হয়েছে ওই বেঞ্চ গরম করা পর্যন্তই। এও তো এক ইতিহাস, ছেলেমানুষির ইতিহাস। তার ছেলেমানুষির ইতিহাস তার ফুটবল প্রতিভার মতোই সুবিশাল।

ব্রাজিলিয়ান লেখক কিংবা সাংবাদিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ গারিঞ্চাকে পাগলই ভাবতেন। ভাবার কারণও ছিল যথেষ্ট, ‘৫৮ বিশ্বকাপ ছিল ব্রাজিলের কাছে ভিন্ন এক আবেগের নাম। মারাকানার কান্না তো তখনও তাজা স্মৃতি, ওই বিশ্বকাপ ছিল সেলেসাওদের নিজেদেরকে নতুন করে প্রমাণের বিশ্বকাপ। বড় টুর্নামেন্ট জিততে যে দরকার মানসিক শক্তি তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিল আগের দুই আসরে। দূরদর্শী টিম ম্যানেজমেন্ট তাই দলের সঙ্গে যুক্ত করল একজন সাইক্রিয়াটিস্ট, যার কাজ দলের মধ্যে মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করা।

বর্তমান সময়ে খেলোয়াড়দের বাছাই করায় প্রাধান্য দেওয়া হয় ফিটনেসকে, ‘৫৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিল দল খেলোয়াড় নির্বাচনে তৈরি করে এক মানদণ্ড, মানসিক শক্তির মানদণ্ড। খেলোয়াড় নির্বাচনে প্রাধান্য পাবে আক্রমণাত্মক মানসিকতা ও বুদ্ধিমত্তা।

এই দুই মানদন্ডে ডাহা ফেল তো বটেই গারিঞ্চা পেয়েছিলেন একদম শূন্য! সেই সাইক্রিয়াটিস্টের রিপোর্টে ছিল, গারিঞ্চার বুদ্ধিমত্তা নাকি শিশুদের মতো, আক্রমণাত্মক মানসিকতা শূন্যের পর্যায়ে! এমন এক বিশ্বকাপে এমন শিশুসুলভ মানসিকতার খেলোয়াড়কে পাগল বলাই তো স্বাভাবিক।

গারিনঞ্চা, Garrincha [ বাঁকানো পায়ের ইশ্বর]
গারিনঞ্চা, Garrincha [ বাঁকানো পায়ের ইশ্বর]
গারিঞ্চা শিশুসুলভতার আরো উদাহরণ আছে। ১৯৫৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে মাঠে নামার আগ পর্যন্ত তিনি জানতেনই না ফাইনালে প্রতিপক্ষের নাম! ভাবা যায়? অবাক হওয়ার কোনো সীমানা থাকলে সেটাও ভেঙে যাবে যখন শুনবেন ফাইনাল ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও বল নিয়ে ছুটছিলেন গারিঞ্চা।

‘৫৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে সুইডেনকে হারানোর পর সতীর্থরা উল্লাসে ফেটে পড়লেও গারিঞ্চাকে সেই আবেগ ছুঁতে পারেনি। পারবেই বা কি করে? উনি তো বুঝতেই পারছিলেন না এত আনন্দের কী আছে! ভেবেছিলেন, এটা হয়তো লিগের মতোই দুটি করে ম্যাচ, তাই আরো একটা ম্যাচ বাকি। মানুষ এতটা সহজ-সরলও হয়?

অন্য কেউ হন কিনা জানা নেই, তবে গারিঞ্চা এতটাই সহজ সরল ছিলেন। ঘটনা জানতে ফিরে যেতে হবে বিশ্বকাপের ওই আসর শুরুর আগে। আগের বিশ্বকাপে যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও জুলিনিওর দুর্দান্ত ফর্মের কারণে বাদ পড়েছিলেন, তবে তাতে তার বিন্দুমাত্র আফসোস ছিল না।

পারফর্ম করে পরের আসরে ঠিকই খেলেন। টনসিলের ব্যাথা ছোটবেলা থেকেই ভুগিয়েছে গারিঞ্চাকে। সেই আসর শুরুর আগে সেই টনসিলে ছুরি-কাঁচি চালানো হয়। ডাক্তারের সুই-সুতোর সেলাই সহ্য করেছিলেন, তাও আবার কোনো ধরনের চেতনানাশক ছাড়াই। এত কষ্ট করার কী আছে?

কষ্টে নাকি কেস্ট মেলে! গারিঞ্চার তো মিলেছিল, মিলেছিল আইসক্রিম খাওয়ার সুযোগ! ইচ্ছেমতো আইসক্রিম খাওয়ার যে স্বপ্ন লালিত করেছিলেন তা পূরণ হলো অবশেষে। ইচ্ছেমতো আরেকটা জিনিস খেতেন- কাশাচা!

গারিনঞ্চা, Garrincha [ বাঁকানো পায়ের ইশ্বর]
গারিনঞ্চা, Garrincha [ বাঁকানো পায়ের ইশ্বর]
অভাবে নাকি স্বভাব নষ্ট হয়, গারিঞ্চারও হয়েছিল। বাবা ছিলেন পুরোদস্তুর মদ্যপ। জন্ম থেকেই গারিঞ্চার পায়ের আকৃতি ছিল অস্বাভাবিক, একটি পা ছিল অন্য পা থেকে ৬ ইঞ্চি ছোট, বাঁকা আর বাইরের দিকে বের হওয়া। পায়ের এমন অবস্থায় ফুটবল খেলা সম্ভব? গারিঞ্চার জন্য সম্ভব ছিল।

ছোটবেলায় ব্রাজিলের আর দশটা শিশুর মতোই ফুটবল নিয়ে সারাদিন ছুটতেন গারিঞ্চা। পরিবার চালানোর দায়ে একসময় স্থানীয় এক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ করা শুরু করেন। সঙ্গে ঐ কারখানার ফুটবল দলের হয়ে খেলতেন, তার উপরই থাকতো ম্যাচ জেতানোর দায়িত্ব।গারিঞ্চার কারখানার মালিকের একটি ক্লাব ছিল, যেটি ছিল রিও-দি-জেনিরোর একটি জেলার সেরা ক্লাব।

গারিঞ্চাকে সেই ক্লাবের হয়ে খেলতে দেন। সেই ক্লাবেই তার প্রথম পেশাদার ‘চুক্তি’ হয়। যে চুক্তি শুনলে অনেকের চোখ কপালে উঠে যেতে পারে! গোলের বিনিময়ে অর্থ নয়, গারিঞ্চা চাইতেন খাবার ও মদ!

মাঠে নামার আগে এবং পরে, এমনকি ম্যাচের বিরতিতেও ‘কাশাচা’ লাগতো গারিঞ্চার। কাশাচা ব্রাজিলের এক ধরনের অ্যালকোহল, যে পানীয় তৈরি হয় আখের রস দিয়ে। গারিঞ্চা ‘কাশাচা’ খাওয়া শুরু করার পর সেই কাশাচাই তাকে খেয়ে দেয়। মদ্যপান করে একবার বাবাকে নিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েছিলেন।

একইভাবে দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন বান্ধবী এলজা সোয়ারেসকে সঙ্গে নিয়েও। এলজার দুটি দাঁত উপড়ে গিয়েছিল। এলজার মাকে নিয়ে গাড়ি দুর্ঘটনাতে তো মারাই যান এলজার মা। এলজাও গারিঞ্চাকে ছেড়ে চলে যান। এলজা ছিলেন তখনকার ব্রাজিলের সবচেয়ে বিখ্যাত সাম্বা গায়িকা। শুধু এলজাই নন, গলাপর্যন্ত মদ্যপান তার জীবনটাই কেড়ে নেয়। ১৯৭৩ সালে মাত্র ৫০ বছর বয়সে মারা যান গারিঞ্চা।

খামখেয়ালি রাজা গারিঞ্চা [ Garrincha ] সম্পর্কে আরও পড়ুন :

আমাদের অন্যান্য আয়োজন:

মন্তব্য করুন