নারী ক্রিকেটের নতুন পরাশক্তি হওয়ার পথে বাংলাদেশ?

নারী ক্রিকেটের নতুন পরাশক্তি হওয়ার পথে বাংলাদেশ? : প্রতিনিয়ত যেনো নিজেদের ছাড়িয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। চলমান নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপের মধ্যে অন্য দলগুলোর তুলনায় সর্বাপেক্ষা নতুন দল বাংলাদেশ নারী-ক্রিকেট দলই। ২০০৬ সালে গঠিত হয় বাংলাদেশ নারী-ক্রিকেট দল। মাত্র ১৬ বছরের মধ্যেই, বাংলাদেশ নারী-ক্রিকেট দল দেশের নারী- ক্রিকেটকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। নিজেদের দিনে যেকোনো প্রতিপক্ষকে হারাতে সক্ষম এ নারী-ক্রিকেট দল।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলার এই বাঘিনীদের এমন কিছু অর্জন রয়েছে যা দেশের ছেলেরাও এখন পর্যন্ত অর্জন করতে পারেননি।

 

নারী ক্রিকেটের নতুন পরাশক্তি হওয়ার পথে বাংলাদেশ?
ওয়ানডে স্ট্যাটাস অর্জনের পর বাংলাদেশ নারী  ক্রিকেট দল

 

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অভিষেক হয় ২০০৭ সালে, থাইল্যান্ডের বিপক্ষে। ২০১১ সালে ঘরের মাটিতে অনুষ্ঠিত নারী-ক্রিকেট বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ারে যুক্তরাষ্ট্রকে ৯ উইকেটে হারানোর মাধ্যমে ওয়ানডে স্ট্যাটাস অর্জন করে বাংলাদেশ নারী-ক্রিকেট দল। এরপর, দিনের পর দিন নিজেদের ক্রিকেটে ব্যাপক উন্নতি সাধনের মাধ্যমে দেশের নারী- ক্রিকেটকে দেখিয়েছেন ,এক নতুন গতিপথ।

২০১১ সালে, ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়ার  পর থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শিরোপা বাংলার মেয়েরা। এছাড়া, এ ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়ার আগে ২০১০ এশিয়ান গেমসে রৌপ্য পদক জিতেছিল বাংলাদেশ।

[ নারী ক্রিকেটের নতুন পরাশক্তি হওয়ার পথে বাংলাদেশ? ]

২০১৪ সালে সর্বপ্রথম ক্রিকেটের যেকোনো সংস্করণের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশের নারীরা। সেবার, অবশ্য ঘরের মাটিতে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার সুবাদে অংশহগ্রহণ করার সুযোগ পায় বাংলাদেশ নারী-ক্রিকেট দল।

এরপর, ২০১৪ এশিয়ান গেমসে আবারো রৌপ্য পদক পায় বাংলাদেশ নারী-ক্রিকেট দল। ২০১৫ সালে আইসিসি নারী টি টোয়েন্টি কোয়ালিফায়ারে রানার্স আপ হয় নারী-ক্রিকেট দল।

নারী ক্রিকেটের নতুন পরাশক্তি হওয়ার পথে বাংলাদেশ?
টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব জেতার পর নারী ক্রিকেট দল

২০১৮ সাল ছিলো বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের জন্য এক অন্যতম স্মরণীয় বছর। সে বছর প্রথমবারের মতো আইসিসির কোনো বৈশ্বিক ট্রফি জেতে বাংলাদেশের নারীরা। সে বছর আইসিসি নারী টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ারের শিরোপা জেতে বাংলাদেশ নারী-ক্রিকেট দল। সে বছরই বাংলাদেশ নারী-ক্রিকেট দল এশিয়া কাপ টি টোয়েন্টির শিরোপা জেতে যা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ছেলেরাও জিততে পারেনি।

সেবার,  প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট জিতে ইতিহাস রচনা করেছিল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে এশিয়ার পরাশক্তি ভারতকে ফাইনালে ৩ উইকেটে হারান সালমারা।

ভারত প্রথমে ব্যাট করে ১১২ রান করে। জবাবে ১১৩ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে টান টান উত্তেজনা রেখে শেষ বলে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

টানা চার ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠে বাংলাদেশ। লিগ পর্বের খেলায় ভারত পাকিস্তানকেও পরাজয়ের স্বাদ দিয়েছিলেন সালমারা। যে কারণে আত্মবিশ্বাস নিয়ে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে নামে দলটি। বোলিং ব্যাটিং দুই বিভাগেই সেরা ছন্দ দেখানোর চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন মেয়েরা। তাতে সফলও হয়েছেন তারা।

কিনরারা ওভাল স্টেডিয়ামে টন জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিলেন সালমা খাতুন। ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে দারুণ বোলিং করে বাংলাদেশ। ৭৪ রানে ৭ ব্যাটার সাজঘরে ফেরেন। হারমানপ্রীত কৌর হাফ সেঞ্চুরি করে সেখান থেকে দলটাকে শতক পার করেন। ৪২ বলে ৫৬ রান করেন তিনি। নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেটে ১১২ রানের সংগ্রহ পায় ভারত। খাদিজা তুল কুবরা ও রুমানা আহমেদ দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

১১৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাটাররা ভালোই করছিলেন। হঠাৎ করেই ১৭ ওভার ৩ বলে পঞ্চম উইকেট হারানোর সময় ৯৬ রানে ছিলো বাংলাদেশ। ম্যাচ তখন হাতের মুঠোয়, নিশ্চিত জয় জেনে গিয়েছেন খেলোয়াড়রা। অথচ সেখান থেকেই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দল। ম্যাচ গড়া শেষ বল পর্যন্ত। এতে ম্যাচের উত্তাপও বাড়ে। নিগার সুলতানা ২৭, রুমানা আহমেদ ২৩, আয়শা রহমান ১৭ ও শামিমা সুলতানা ১৬ রান করেন।

নারী ক্রিকেটের নতুন পরাশক্তি হওয়ার পথে বাংলাদেশ?
এশিয়া কাপ ট্রফি সহকারে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল

এ জয়ের মাধ্যমেই দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় শিরোপা জেতে নারী ক্রিকেট দল।

এ জয়ের পর, ২০১৯ দক্ষিণ এশিয়া গেমসে স্বর্ণপদক লাভ করে নারী-ক্রিকেট দল। ২০২১ সালে নারী-ক্রিকেট বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ারে পাকিস্তানকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে নারী-ক্রিকেট দল। এর আগেই, টেস্ট খেলার যোগ্যতাও অর্জিত হয় নারী-ক্রিকেট দলের।

নারী ক্রিকেটের নতুন পরাশক্তি হওয়ার পথে বাংলাদেশ?
পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পর বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল

সম্প্রতি, ২০২২ নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপেও নিজেদের জাত চেনাচ্ছেন নারী ক্রিকেটাররা। টুর্নামেন্টে শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকা এবং উইন্ডিজের কাছে সামান্য রানের ব্যবধানে হারলেও পাকিস্তানকে হারিয়ে নিজেদের ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম জয় তুলে নেয় বাংলার বাঘিনীরা।

সে ম্যাচে হাল ছেড়ে না দিয়ে লেগে থেকে দারুণ লড়াইয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত জয় আদায় করেই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটারেরা৷ স্বপ্নের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মেয়েদের প্রথম জয় অর্জিত হয় এভাবেই।

২০০৬ সালে নারী-ক্রিকেট দল গঠিত হওয়ার মাত্র ১৬ বছরের মধ্যেই এতসব অর্জন বাংলাদেশের নামের পাশে লিখিয়েছেন বাংলাদেশের নারী-ক্রিকেটাররা। তাই, পরবর্তীতে যে বাংলাদেশ নারী-ক্রিকেট দলও বিশ্ব নারী-ক্রিকেটের এক অন্যতম পরাশক্তি হতে পারে, এ বিষয়ে বাজি ধরাই যায়।

আরও পড়ুন:

 

মন্তব্য করুন