পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ক্রিকেটের পার্থক্য

পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ক্রিকেটের পার্থক্য : পাকিস্তান ক্রিকেট দল, সম্প্রতি সময়ে বেশ ভালো পারফর্মেন্স দেখাচ্ছে । বিশ্বের সকল বাঘা বাঘা দলকে পরাজিত করার পাশাপাশি একটি ফেয়ারলেস ব্র্যান্ডের ক্রিকেটও খেলছে পাকিস্তান। যা এগিয়ে নিয়ে চলেছে পাকিস্তান ক্রিকেটকে এবং যার মাধ্যমে এক নতুন জীবন পেয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট। এছাড়াও, পাকিস্তান ক্রিকেট দলে উঠে আসছে নতুন নতুন সব ক্রিকেটীয় ট্যালেন্ট যা পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে করছে আরো বেশি ধাড়ালো। সম্প্রতি, ঘরের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজও জিতেছে তারা।

পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ক্রিকেটের পার্থক্য - পাকিস্তানের ক্রিকেটের সাথে বাংলাদেশের ক্রিকেটের পার্থক্য
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর পাকিস্তান দলের উদযাপন

এখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিশ্বের চতুর্থ ধনী ক্রিকেট বোর্ড হওয়া সত্ত্বেও কেনো এখনো বাংলাদেশ ক্রিকেট, পাকিস্তান ক্রিকেট থেকে এতো পিছিয়ে?

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড তাদের ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট খেলা, ১৯২ জন খেলোয়াড়কে মাসিক বেতনের আওতায় এনেছে। অর্থাৎ, পাকিস্তান জাতীয় দলের খেলোয়াড় ছাড়াও, আরো ১৯২ জন ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট খেলুড়ে ক্রিকেটারদের তারা মাসিক বেতনের আওতায় এনেছে।’

[ পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ক্রিকেটের পার্থক্য ]

এই মাসিক বেতনের বাহিরেও তাদের ম্যাচ ফি , ট্রান্সপোর্ট এলাওয়েন্স, বোর্ডিং এবং কল্যাণ ফান্ড রয়েছে।

তারা মাসিক বেতন পান মোট ৫টি ক্যাটাগরিতে। এ+ ক্যাটাগরি, এ ক্যাটাগরি, বি ক্যাটাগরি, সি ক্যাটাগরি এবং ডি ক্যাটাগরি।

এ+ ক্যাটাগরিতে সর্বমোট ১০ জন ক্রিকেটার আছে। সে ১০ জন ক্রিকেটার পান, ২ লাখ ৫০ হাজার পাকিস্তানি রূপি যেটি বছর শেষে দাঁড়ায় প্রায় ৩০ লাখ পাকিস্তানি রুপিতে। এই ৩০ লাখ পাকিস্তানী রুপি বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ১৩ লাখ টাকার মতো।

এরপর আসে, এ ক্যাটাগরি। এই ক্যাটাগরিতে আছে মোট ৪০ জন ক্রিকেটার এবং এরা এক মাসে পান ১ লাখ ৮৫ হাজার পাকিস্তানী রুপি যেটি বছর শেষে দাড়ায় ২২ লাখ ২০ হাজার পাকিস্তানি রুপিতে। এটি বাংলাদেশী টাকায় বছরে প্রায় ১০ লাখ টাকার মতো।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড লোগো [ Bangladesh Cricket Board BCB Logo ]
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড লোগো [ Bangladesh Cricket Board BCB Logo ]
বি ক্যাটাগরিতেও আছেন মোট ৪০ জন খেলোয়াড়। এসব ক্রিকেটারদের মাসিক বেতন ১ লাখ ৭৫ হাজার পাকিস্তানী রুপি এবং বার্ষিক বেতন ২১ লাখ পাকিস্তানী রুপি। বাংলাদেশী টাকায় তা দাঁড়ায় ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

সি ক্যাটাগরিতে আছেন মোট ৬৪ জন খেলোয়াড়। তাদের মাসিক বেতন ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা এবং বেতনের মাধ্যমে বার্ষিক আয় ১৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বাংলাদেশী টাকায় তা দাঁড়ায় প্রায় ৯ লাখ টাকার মতো।

ডি ক্যাটাগরিতে মোট খেলোয়াড় আছেন ৩৭ জন। তারা প্রতি মাসে বেতন পান ১ লাখ ৪০ হাজার পাকিস্তানী রুপি এবং বেতনের মাধ্যমে তাদের বার্ষিক আয় ১৬ লাখ ৮০ হাজার পাকিস্তানী রুপি। বাংলাদেশী টাকায় তা দাঁড়ায় ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকার মতো।

পাকিস্তানের ক্রিকেটের সাথে বাংলাদেশের ক্রিকেটের পার্থক্য
কায়েদ এ আজম ট্রফি

পাকিস্তানের প্রথম শ্রেণির লঙ্গার ভার্সন টুর্নামেন্ট ” কায়েদ এ আজম ট্রফি”তে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের ম্যাচ ফি ৬০ হাজার পাকিস্তানী রুপি। অর্থাৎ, ১ জন ক্রিকেটার মোট ১০টি ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ খেললে সে কমপক্ষে ৬ লাখ পাকিস্তানী রুপি আয় করে ফেলতে পারছে যা বাংলাদেশী টাকায় দাঁড়ায় ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকার মতো।

অর্থাৎ , শুধুমাত্র ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট খেলে পাকিস্তানী ক্রিকেটাররা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হতে পারছে।

অর্থাৎ, পাকিস্তানী ‘এ+’ ক্যাটগরির ক্রিকেটাররা ম্যাচ ফি এবং বেতনসহ ১ বছরে আয় করেন ২৩ লাখ টাকা। পাকিস্তানী ‘এ’ ক্যটাগরির ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি এবং বেতনসহ বার্ষিক আয় ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া, পাকিস্তানী ‘বি’ ক্যাটাগরি, ‘সি’ ক্যাটাগরি এবং ‘ডি’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়েদের বার্ষিক আয় যথাক্রমে ১৯ লাখ, ১৮ লাখ এবং ১৭ লাখ টাকা।

পাকিস্তানের এ “কায়েদ এ আজম” টুর্নামেন্টের মূল একাদশের বাহিরে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়ে ” সেকেন্ড ইলেভেন কায়েদ এ আজম” টুর্নামেন্ট খেলা হয়। অর্থাৎ, এ টুর্নামেন্টগুলোর মাধ্যমে পাকিস্তানের প্রত্যেক ক্রিকেটারই ম্যাচ পেয়ে থাকেন।

Pakistan Cricket Board Logo 2 পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ক্রিকেটের পার্থক্য

আমাদের দেশের এনসিএল এবং বিসিএলের ” টায়ার ১” এর খেলোয়াড়েরা ম্যাচ শেষে পান ৬০ হাজার টাকা এবং “টায়ার ২” এর খেলোয়ারেরা ম্যাচ শেষে পান ৫০ হাজার টাকা করে।

অর্থাৎ, বছর শেষে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট খেলে “টায়ার ১” এর খেলোয়াড় বার্ষিক আয় প্রায় ৭ লাখ টাকার কাছাকাছি।

এছাড়াও, পাকিস্তানের ন্যাশনাল টি টোয়েন্টি কাপে একজন খেলোয়াড় প্রতি ম্যাচে ৪০ হাজার পাকিস্তানী রুপি করে পেয়ে থাকে। অর্থাৎ, আমরা দেখতে পাই যে পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা সবসময়ই খেলার অ্যাক্টিভিটিসের মধ্যেই আছেন।

এছাড়াও, বলা হচ্ছে বাৎসরিক ক্রিকেটে বর্তমানে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।

এছাড়াও, দেশীয় কোচদের আর্থিক দিয়েও রয়েছে অবহেলা। একজন ফার্স্ট ক্লাস কোচকে মাস শেষে দেয়া হয় মাত্র ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা।

আরও পড়ুন:

মন্তব্য করুন