বাস্কেটবল খেলার নিয়মকানুন এবং ইতিহাস

বাস্কেটবল খেলার নিয়মকানুন এবং ইতিহাস : ফুটবল, হকি এবং ক্রিকেটের মতো বাস্কেটবলও বিশ্বের একটি জনপ্রিয় খেলা। এ বাস্কেটবল অলিম্পিক গেমসেও ইভেন্ট হিসেবে খেলা হয়। বর্তমান বিশ্বে ক্রিকেট এবং ফুটবল অধিক জনপ্রিয়তা পেলেও এ খেলার জনপ্রিয়তাও একেবারেও কম না। বাস্কেটবইল খেলাটির জন্ম ১৮৯১ সালে।

ম্যাসাচুসেটসের স্প্রিংফিল্ডে অবস্থিত স্প্রিংফিল্ড কলেজটি সে সময় ইয়াং মেনস ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ট্রেনিং স্কুল বা সংক্ষেপে ওয়াইএমসিএ ট্রেনিং স্কুল নামে পরিচিত ছিল।

বাস্কেটবল খেলার নিয়মকানুন এবং ইতিহাস
প্রাচীন বাস্কেটবল

১৮৯০ থেকে ১৮৯৫ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জেমস নেইস্মিথ। এই নেইস্মিথই তাঁর শিক্ষার্থীদের জন্য আবিষ্কার করেছিলেন বাস্কেটবল খেলাটি। নেইস্মিথ তাঁর শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ১৮ জনকে বেছে নিয়ে তাদের দুটি দলে ভাগ করেন।

বাস্কেটবল খেলার নিয়ম

খেলাটির জন্য প্রাথমিকভাবে ১৩টি নিয়মও তৈরি করেছিলেন জেমস নেইস্মিথ। তবে প্রথম দিকে বাস্কেটবল কোর্টের জন্য নির্দিষ্ট কোনো মাপ ছিল না। বল হিসেবেও খেলোয়াড়রা ব্যবহার করতেন ফুটবল খেলার বল। কোর্টের দুই পাশে দেয়ালের সঙ্গে দুটি ফলের ঝুড়ি লাগানো থাকত।

ওই ঝুড়িতে বল ফেলতে পারলেই একটি করে পয়েন্ট পাওয়া যেত। বাস্কেটবলের আদি নিয়ম-কানুনের মধ্যে কয়েকটি এ রকম ছিল- একজন খেলোয়াড় কোনো অবস্থাতেই বল নিয়ে দৌড়াতে পারবে না, সে যেই অবস্থান থেকে বলটি হাতে পাবে, সেই অবস্থান থেকেই এক হাত বা দুই হাতের সাহায্যে ছুড়ে দিতে হবে, খেলাটির সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল

৩০ মিনিট, তবে প্রথম ১৫ মিনিট পর ৫ মিনিটের একটি বিরতি পাওয়া যাবে, ঝুড়িতে বল ফেলার পর বলটি যদি আপনাআপনিই ঝুড়ি থেকে বেরিয়ে আসে, তবে সেটিকে গোল বলে গণ্য করা হবে না। নেইস্মিথের এক ছাত্র নতুন এ খেলাটির নাম প্রস্তাব করেছিলেন ‘নেইস্মিথ গেম’। কিন্তু এ নামটি তাঁর পছন্দ ছিল না।

বাস্কেটবল খেলার নিয়মকানুন এবং ইতিহাস
একটি বাস্কেটবল

তিনি বললেন, ‘যেহেতু এ খেলাটিতে একটি বল এবং একটি বাস্কেট আছে, তাহলে এ খেলাটিকে আমরা বাস্কেটবল নামেই ডাকি না কেন’? আর এর পর থেকেই বাস্কেটবল নামে পরিচিতি পেয়ে যায় এ খেলাটি। ১৮৯৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কলেজে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এ খেলাটি। বাস্কেটবলের প্রথম বড় আসরটি বসে ১৮৯৮ সালে। খেলার নিয়মেও আসতে থাকে ছোটখাটো পরিবর্তন। আর এভাবেই ধীরে ধীরে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে বাস্কেটবল।

কোর্ট :

বাস্কেটবল খেলার কোর্ট হবে আয়তাকার, মেঝে হবে শক্ত ও সমতুল্য এবং বাধামুক্তহীন জাতীয় ও আঞ্চলিক খেলার কোর্টের দৈর্ঘ্য হবে ২৬ মি. এবং প্রস্থ ১৪ মিটার। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য কোর্টের দৈর্ঘ্য হবে ২৮ মিটার ও প্রস্থ হবে ১৫ মিটার।

বাস্কেটবল খেলার নিয়মকানুন এবং ইতিহাস
বাস্কেটবল খেলার কোর্ট

২. কোর্টের বৃত্ত :

কোর্টের মাঝে ৩ টি বৃত্ত আছে। প্রত্যেকটির ব্যাসার্ধ ১.৮০ মিটার।

৩. সংরক্ষিত এলাকা :

এন্ডলাইনের মধ্যবিন্দু থেকে উভয় দিকে ১.৮০ মিটার করে নিয়ে দুটি চিহ্ন দিতে হবে। এন্ড লাইনের মাঝ থেকে সামনের দিকে ৫.৮০ মিটার নিয়ে উভয় দিকে ১.৮০ মিটার নিয়ে ৩.৬০ মিটার দাগের দুই মাথা বরাবর দাগ টানতে হবে। এই দাগের ভেতরের জায়গাকে সংরক্ষিত এলাকা বলে।

৪. রিং :

কোর্ট থেকে রিং এর উচ্চতা ৩.০৫ মি. বোর্ড থেকে ১৫ সে.মি দূরে রিং লাগানো হয়। রিং এর ব্যাসার্ধ ৪৫ সে.মি। রিং এর সাথে নেট লাগানো থাকবে যার দৈর্ঘ্য হবে ৪০ সে.মি।

৫. বল :

বলের আকৃতি হবে গোলাকার। ওজন ৫৬৭ গ্রাম থেকে ৬৫০ গ্রাম পর্যন্ত, পরিধি ৭৪.৯-৭৮ সে.মি। বলের উপরে ৮টি প্যানেল থাকবে। বলের রং হবে কমলা। উপরি ভাগ খসখসে।

৬. খেলার সময় বিভাজন:

খেলার সময়  ৪০ মিনিট। চারভাগে খেলা হয়। প্রতিভাগে ১০ মিনিট করে। ১ম ও ২য় পর্বের এবং ৩য় ও ৪র্থ পর্বের মাঝে বিরতি ২ মিনিট। খেলার মাঝে বিরতি ১৫ মিনিট।

৭. পয়েন্ট :

৬.২৫ মিটার দাগের বাইরে থেকে স্কোর হলে ৩ পয়েন্ট। ৬.২৫ মিটার দাগের ভেতর থেকে স্কোর হলে ২ পয়েন্ট। ফ্রি থ্রো থেকে স্কোর ১ পয়েন্ট।

৮. খেলা শুরু :

টসের মাধ্যমে কোনো দল কোন বাস্কেটে গোল করবে তা নির্ধারণ করতে হবে। পরে কোর্টের মাঝে বৃত্তের দুই দলের দুই জন খেলোয়াড় দাঁড়িয়ে থাকবে। রেফারি মাঝে দাঁড়িয়ে বল শূন্যে ছুঁড়ে দিয়ে খেলা শুরু করবেন।

৯. ৩ সেকেন্ড রুল:

যে দলের খেলোয়াড় বল নিয়ন্ত্রণ করছে সেই দলের কোনো খেলোয়াড় সংরক্ষিত এলাকায় বল ছাড়া ৩ সেকেন্ডের বেশি সময থাকতে পারে না। এমনকি দাগও স্পর্শ করতে পারে না।

বাস্কেটবল; Basketball; बास्केटबाल; باسکٹ بال ; كرة سلة
বাস্কেটবল; Basketball; बास्केटबाल; باسکٹ بال ; كرة سلة

১০। ৫ সেকেন্ড রুল :

ক. রেফারির সংকেতের পর ৫ সেকেন্ডের ভেতর বল থ্রো করতে হবে।

খ. ৫ সেকেন্ডের বেশি সময় কেউ বল ধরে রাখতে পারবে না।

গ. দুই দলের খেলোয়াড় ৫ সেকেন্ডের বেশি সময় ধরে টানাটানি করতে পারবে না।

ঘ. বল ধরার পর ৫ সেকেন্ডের ভেতর বল ড্রিবল বা পাস করতে হবে।

১১. ৮ সেকেন্ড রুল :

নিজেদের কোর্টে বল ৮ সেকেন্ড পর্যন্ত আয়ত্ত্বে রাখা যায়। ৮ সেকেন্ডের ভেতর বিপক্ষের কোর্টে বল নিতে হবে।

১২. ২৪ সেকেন্ড রুল :

একটি দলের সমস্ত খেলোয়াড় মিলে ২৪ সেকেন্ড পর্যন্ত বল আয়ত্ত্বে রাখতে পারবে।

১৩. ভায়োলেশন :

খেলার নিয়ম ভঙ্গ করা যেমন ব্যক্তিগত ফাউলের সময় হাত না তোলা, ৩, ৫, ৮ সেকেন্ডে রুল ভঙ্গ করা ইত্যাদি।

১৪. টেকনিক্যাল ফাউল :

অফিসিয়ালদের বিরুদ্ধে অবজ্ঞা প্রদর্শন করলে ইচ্ছাকৃতভাবে বারবার নিয়মভঙ্গ করে অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ করলে।

১৫. ব্যক্তিগত ফাউল :

বল খেলার সময় বা ডেড অবস্থায় বিপক্ষ খেলোয়াড়ের সাথে অবৈধ কায়িক সংঘর্ষ হলে তাকে ব্যক্তিগত ফাউল বলে।

বাস্কেটবল; Basketball; बास्केटबाल; باسکٹ بال ; كرة سلة
বাস্কেটবল; Basketball; बास्केटबाल; باسکٹ بال ; كرة سلة

১৬. ইচ্ছাকৃত ফাউল :

কোনো খেলোয়াড় ইচ্ছাকৃতভাবে বিপক্ষের কোনো খেলোয়াড়কে ফাউল কররে ইচ্ছাকৃত ফাউল হয়।

১৭. ডাবল ফাউল :

দুই দলের খেলোয়াড় একই সাথে একে অপরের বিরুদ্ধে ফাউল করলে যে অপরাধ হয় তাকে ডাবল ফাউল বলে।

১৮. ফাইভ ফাউল :

৪০ মিনিটের খেলায় কোনো খেলোয়াড় ব্যক্তিগত ও টেকনিক্যাল সর্বমোট ৫ টি ফাউল করলে তাকে অবশ্যই কোর্ট ত্যাগ করতে হবে।

১৯. সেভেন ফাউল :

দলীয়ভাবে কোনো দল প্রতি অর্ধে ৭টি ব্যক্তিগত বা টেকনিক্যাল ফাউল করলে এবং ৪ X ১০ মিনিটের খেলায় প্রতি পর্বে ৪টি ব্যক্তিগত ও টেকনিক্যাল ফাউল করলে পরবর্তী ফাউলের জন্য ২টি ফ্রি থ্রো দেওয়া হবে। যাকে ফাউল করা হয়েছে তিনিই ফ্রি থ্রো মারবেন।

বাস্কেটবল; Basketball; बास्केटबाल; باسکٹ بال ; كرة سلة
বাস্কেটবল; Basketball; बास्केटबाल; باسکٹ بال ; كرة سلة

আরও পড়ুন:

“বাস্কেটবল খেলার নিয়মকানুন এবং ইতিহাস”-এ 3-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন