ভারতের ক্রিকেটের সাথে বাংলাদেশ ক্রিকেটের পার্থক্য

ভারতের ক্রিকেটের সাথে বাংলাদেশ ক্রিকেটের পার্থক্য : বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ড হলো ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। অর্থের দিক দিয়ে পৃথিবীর ধনী ক্রিকেট বোর্ড হওয়ার পাশাপাশি দলের পারফর্মেন্সের দিক দিয়েও ভারতীয় ক্রিকেট দল , পুরো ক্রিকেট বিশ্ব দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় ভারতের খেলা হলেই, সেখানে ভারতীয় দর্শকদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তবে, ভারতীয় ক্রিকেটের সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেটের বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে।

 ভারতের ক্রিকেটের সাথে বাংলাদেশ ক্রিকেটের পার্থক্য
সূর্যকুমার জাদভ

খুব সম্প্রতি সময়ে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, ভারতীয় ক্রিকেট দলে এমন কিছু ক্রিকেটারের অভিষেক হয়েছে যাদের বয়স ৩০এর আশেপাশে। সুরিয়াকুমার জাদভ, শার্দুল ঠাকুর, ক্রুনাল পান্ডিয়া এবং থাঙ্গারাসু নাটারাজান এমন খেলোয়াড়দের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

[ ভারতের ক্রিকেটের সাথে বাংলাদেশ ক্রিকেটের পার্থক্য ]

এখন পাঠকদের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, যে ভারতের এসব খেলোয়াড়েরা ৩০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন ভারতীয় জাতীয় দলে খেলার জন্য। এছাড়াও, ভারতীয় অভিজ্ঞ উইকেটকিপার ব্যাটার দীনেশ কার্তিকের দিকেও লক্ষ্য করলে আমরা দেখতে পাই যে , ৩৭ বছর বয়সেও জাতীয় দলে কামব্যাক করার একটা সম্ভাবনা সম্প্রতি চলমান আইপিএলে করা চমৎকার পারফর্মেন্সের সুবাদে জাগিয়ে তুলেছেন।

তবে, আমাদের দেশে এমন অনেক খেলোয়াড় আছেন, যারা বয়স ২৪ থেকে ২৫ বছর বয়স হলেই জাতীয় দলে সুযোগ না পেয়ে একেবারে ক্রিকেট খেলা ছেড়েই দেন। হয়ত, এমন অনেক ক্রিকেটার আছেন যারা নিয়মিতভাবে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে যাচ্ছেন , তবে তা জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার সেরকম অ্যাম্বিশন নিয়ে নয়।

 ভারতের ক্রিকেটের সাথে বাংলাদেশ ক্রিকেটের পার্থক্য
থাঙ্গারাসু নাটারাজান

এর পেছনে মূল কারণ  হচ্ছে, রুজি রুটির ব্যাপার। ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে যদি সকল খেলোয়াড়েরাই নিয়মিত অর্থ উপার্জন করতে পারতেন তাহলে হয়ত, অনেক প্রতিবভাবান খেলোয়াড়ই অর্থাভাবে ক্রিকেট খেলা ছেড়ে দিতেন না।

কিন্তু, বাংলাদেশের ক্রিকেটে প্রিমিয়ার ডিভিশনের ক্রিকেটারেরা মোটামুটি ঠিকমতো অর্থ উপার্জন করতে পারলেও দেশের অন্য স্তরের ক্রিকেটারেরা মোটেও স্বাবলম্বী হতে পারছেন না। আমাদের দেশের প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ কিংবা তৃতীয় বিভাগের ক্রিকেটারের কারোই মূল পেশা ক্রিকেট না।

তারা হয়ত, একটা সিজন ক্রিকেট খেলেন আর বাকি সময় টেপ টেনিসের খ্যাপ ক্রিকেট খেলে অর্থ উপার্জন করেন। অনেক ক্রিকেটার, এই খ্যাপ খেলা থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য করে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করেন। এদের কেউই মূলত, অর্থাভাবে ফুল টাইম ক্রিকেটে মনোনিবেশ করতে পারেন না।

কিন্তু, ভারতীয় ক্রিকেট কাঠামো বাংলাদেশের ক্রিকেট কাঠামো থেকে অনেকটাই ভিন্ন। ভারতে লঙ্গার ভার্সন ক্রিকেট, অর্থাৎ যেটিকে আমরা ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট বলি সেটিতে রঞ্জি ট্রফি, ইরানী ট্রফি এবং দুলিপ ট্রফি মিলিয়ে মোট ৩টি লঙ্গার ভার্সন টুর্নামেন্ট হয়।

কিন্তু, বাংলাদেশে এনসিএল এবং বিসিএল মিলিয়ে এ লঙ্গার ভার্সন টুর্নামেন্ট মাত্র ২টি হয়। আমাদের বাংলাদেশে ক্রিকেটারদের আন্দোলন হওয়ার পর ম্যাচ প্রতি টায়ার ১ এর ক্রিকেটারেরা ম্যাচ প্রতি পান ৬০,০০০ টাকা এবং টায়ার ২ এর ক্রিকেটারেরা ম্যাচ প্রতি পান ৫০,০০০ টাকা।

কিন্তু, ভারতে রঞ্জি ট্রফি, ইরানী ট্রফি এবং দুলিপ ট্রফির মতো টুর্নামেন্টে ম্যাচ ৪০ ম্যাচের বেশী খেলা ক্রিকেটারেরা পান ৩,০০,০০০ টাকা, ২১-৪০ ম্যাচ খেলা  ক্রিকেটারেরা পান ২,৫০,০০০ টাকা এবং ২০ এর কম ম্যাচ খেলা ক্রিকেটারেরা পান ২,০০,০০০ টাকা। এর মানে, ৪ দিন কিংবা ৫ দিনের ম্যাচে ভারতের একজন ঘরোয়া ক্রিকেটার প্রায় ৩ লাখ টাকা  উপার্জন করে ফেলতে পারছেন।

এর মানে দাঁড়ায়, ভারতে একজন ক্রিকেটার বছরে মাত্র ৫০ দিন মাঠে নামলেই প্রায় ৩০ লাখের মতো অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

এবার যদি, ভারতের ৫০ ওভারের টুর্নামেন্ট দেবধার ট্রফি এবং বিজয় হাজারে ট্রফির দিকে কিংবা আইপিএল বাদেও অন্যান্য টি টোয়েন্টি ট্রফি থেকেও যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পারেন যার মাধ্যমে অধিকাংশ ক্রিকেটারই একটি স্বচ্ছল জীবনযাপন অতিবাহিত করতে পারেন। ভারতের এই টুর্নামেন্ট গুলোতে তারা

 ভারতের ক্রিকেটের সাথে বাংলাদেশ ক্রিকেটের পার্থক্য
ভারতীয় রঞ্জি ট্রফি

অর্থ উপার্জন করে থাকেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড থেকে।

আমাদের দেশের ক্রিকেটকে বাচিয়ে রেখেছে প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগ। কারণ, এ টুর্নামেন্টগুলো থেকে ক্লাব গুলো বেশ কিছু পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

এছাড়াও, ভারতের আম্পায়ের পরিমাণ যথেষ্ট রয়েছে। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগেও একটি ম্যাচে আম্পায়ারিং করে একজন আম্পায়ার পান ৪ লাখ রূপি করে। অর্থাৎ মাত্র, ২০ টি ম্যাচ আম্পায়ারিং করেই একজন আম্পায়ার ৮০ লাখ রূপির মতো অর্থ উপার্জন করতে পারছেন।

এছাড়া, অন্যান্য লঙ্গার ভার্সন টুর্নামেন্টেও একজন আম্পায়ার ম্যাচ প্রতি ১.৫ লাখ থেকে ২ লাখ টাকা অর্থ উপার্জন করে থাকেন।

কিন্তু, একজন বাংলাদেশের আম্পায়ার একটি ৪ দিনের ম্যাচ  শেষে একজন আম্পায়ার পান ৩৫,০০০ টাকা এবং একটি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে একজন  আম্পায়ার পান ১০,০০০ থেকে ১২,০০০ টাকা।

যে দেশে ক্রিকেটীয় ফ্যাসিলিটি এতো বেশী, সেদেশে নিঃসন্দেহে এক শক্তিশালী ক্রিকেটীয় পাইপলাইন তৈরি হবে যার, জ্বলজন্ত উদাহরণ ভারতীয় ক্রিকেট।

আরও পড়ুন:

“ভারতের ক্রিকেটের সাথে বাংলাদেশ ক্রিকেটের পার্থক্য”-এ 2-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন