মেসির ইতি কি সামনে?

মেসির ইতি কি সামনে? এটা এখন বিরাট প্রশ্ন !!!

মেসি যদি সঙ্গীত শিল্পী হতেন , তাহলে হয়ত তার সূরের মূর্ছনায় হারিয়ে যেতেন সবাই। মেসি যদি অঙ্কন শিল্পী হতেন তাহলে হয়ত তার অঙ্কিত চিত্রের অঙ্কনে, খোদ অঙ্কন দেবীও খুজতেন নিজেকে। মেসি যদি রন্ধন শিল্পী হতেন, তাহলে হয়ত তার রাঁধা রান্নায়, রসনাবিলাস হতো প্রতিনিয়ত। কিন্তু, এসব গুণ নয়; বরং সৃষ্টিকর্তা মেসির পায়ে এমন শিল্প গেঁথে দিয়েছেন যার যাদুতে ফুটবল ভক্তরা খুঁজে পায়, এক ঐশী শান্তি।

নিজের ফুটবলীয় ক্যারিয়ারের মেসি প্রতিনিয়ত ছাড়িয়ে গেছেন নিজেকে। ফুটবলে  এতসব অর্জন, এতসব রেকর্ড দেখলে মেসিকে যে কেউই সর্বকালের সেরা ফুটবলার বললে, অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।

 

মেসির ইতি কি সামনে?
শৈশবের মেসি

 

১৯৮৭ সালের ২৪  জুন আর্জেন্টিনার রেজারিওতে জন্মগ্রহণ করে স্থানীয় ক্লাব গ্রন্দোলির হয়ে খেলার পর নিওয়েলস এন্ড বয়েজের হয়ে খেলে নিজের ফুটবলীয় প্রতিভার জানান দিতে থাকেন মেসি। তবে, মাত্র ১১ বছর বয়সে হরমোনজনিত সমস্যা ধরা পড়ে মেসির।

সে সময়ে মেসির ফুটবলীয় প্রতিভার কারণে, স্থানীয় ক্লাব রিভার প্লেট তার দায়িত্ব নিতে রাজি থাকলেও তার চিকিৎসা খরচ অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে , মেসির দায়িত্ব নিতে রাজি হয়নি রিভার প্লেট।

তবে, তৎকালীন বার্সেলোনার ক্রীড়া  পরিচালক মেসির প্রতিভা সম্পর্কে জানতে পারেন এবং তিনি এসে মেসির খেলা দেখে দ্রতই মেসির সাথে চুক্তিও করেন। চুক্তি করার সময় হাতের কাছে কোনো কাগজ না থাকায় , একটি ন্যাপকিন পেপারেই চুক্তি হয়।

বার্সেলোনার বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে খেলার পরে, ২০০৪ সালের ১৬ অক্টোবর এস্পানিওলের বিপক্ষে বার্সার ইতিহাসের তৎকালীন তৃতীয় কনিষ্ঠতম খেলোয়ার হিসেবে লা লিগায় অভিষেক হয় মেসির।

[ মেসির ইতি কি সামনে? ]

২০০৫ সালের ১ মে, বালোম্পাইয়ের বিপক্ষে তৎকালীন বার্সেলোনার সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে লা লিগায় গোল করার রেকর্ড গড়েন মেসি এবং এ গোল করার সময় মেসির বয়স ছিলো মাত্র ১৭ বছর।

২০০৫ মৌসুমে মেসির সাথে আবারো চুক্তি নবায়ন করে বার্সেলোনা। সেবার লা লিগায় ১৭ ম্যাচে ৬ গোল এবং ইউসিএলে ৬ ম্যাচে ১ গোল করেন মেসি। তবে, সে মৌসুমে চেলসির  বিপক্ষে ইউসিএলের দ্বিতীয় পর্বের দ্বিতীয় লেগের খেলায় মেসির ডান উরুর পেশি ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে, সে মৌসুমে আর কোনো ম্যাচ খেলতে পারেননি মেসি।

 

মেসির ইতি কি সামনে?
গেতাফের বিপক্ষে মেসির করা সেই ঐতিহাসিক গোল

 

২০০৬ মৌসুমে, বার্সার জার্সি গায়ে ২৬ ম্যাচে ১৪ গোল করেন মেসি। সে মৌসুমেই গেতাফের বিপক্ষে ৬ জনকে কাটিয়ে করা এক বিখ্যাত গোল করেন মেসি যা ম্যারাডোনার গোল অব দ্য সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় সেরা গোল হিসেবে আখ্যায়িত করেন অনেকেই।

এ মৌসুমেই সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে এল ক্লাসিকোতে হ্যাট্ট্রিক করার রেকর্ড করেন মেসি। সে মৌসুমের শেষ ১৪ ম্যাচে ১১ গোল করে নিজেকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যান মেসি। এরপর থেকে আর পিছনে তকাতে হয়নি মেসির। বার্সেলোনা এবং আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে করেছেন একের পর এক রেকর্ড।

বার্সেলোনার জার্সি গায়ে লিওনেল মেসি নিজেকে বিশ্বের সেরাদের সেরার কাতারে নিয়ে গেছেন। বার্সেলোনার হয়ে লিওনেল মেসি ৭৭৮ ম্যাচে মোট ৬৭২ টি গোল করেছেন যা একটি ক্লাবের হয়ে কোনো খেলোয়াড়ের সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড। তার ক্যারিয়ারে তিনি সর্বমোট ৭টি ব্যালন ডি অর এবং ২টি ফিফা দ্য বেস্টের পুরষ্কার জেতেন।

মেসির ইতি কি সামনে?
সপ্তম ব্যালন ডি’অর ট্রফি হাতে মেসি

তবে, ২০১০ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত ব্যালন ডি অর এবং ফিফার বর্ষসেরা পুরষ্কার একত্রে দেয়া হতো। সে সময়ে ফিফা ব্যালন ডি’ অর মেসি মোট ৪ বার জিতেছেন। এছাড়াও, তিনি ইউরোপের সেরা ক্লাব ফুটবলারের পুরষ্কারও জিতেছেন মোট ৩ বার। বার্সেলোনার হয়ে তিনি মোট ৩৫ টি শিরোপা জিতেছেন যেটিতে ১০টি লা লিগা শিরোপা এবং ৪টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপাও রয়েছে।

মেসির ইতি কি সামনে?
অনুর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে লিওনেল মেসি

আন্তর্জাতিক ফুটবলে, আর্জেন্টিনার হয়েও মেসির অর্জন ঈর্ষণীয়। আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল সর্বপ্রথম ২০০৫ অনুর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জেতেন। ২০০৮ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে বেইজিং অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জেতেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইওনালও খেলেন লিওনেল মেসি, তবে অধরা বিশ্বকাপের সে ট্রফি ছুয়ে দেখা হয়নি।

মেসির ইতি কি সামনে?
২০২০ কোপা আমেরিকা ট্রফি হাতে মেসি

২০১৫  এবং ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা ট্রফির ফাইনালে উঠেও চ্যাম্পিয়ন হওয়া হয়নি মেসির আর্জেন্টিনার। তবে, ২০২১ কোপা আমেরিকা জয় করে ২৮ বছর পর আর্জেন্টিনার আন্তর্জাতিক ট্রফির খরা কাটায় মেসির আর্জেন্টিনা। এই কোপা আমেরিকার সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন মেসিই। এখন পর্যন্ত, আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোল দাতা মেসিই। তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে এখন পর্যন্ত ৮০ গোল করেছেন মেসি।

২০২১ সালে বার্সেলোনায় নিজের ক্যারিয়ারের ইতি টানার পর, প্যারিস সেইন্ট জার্মেইনে পাড়ি জমান মেসি। তবে, প্যারিসে  সময়টা মোটেও ভালো কাটছে না মেসির। অনেকে বলছেন প্যারিসে নাকি ফুটবলটা ফিল করতে পারছেন না মেসি।

মেসির ইতি কি সামনে?
পিএসজির জার্সিতে মেসি

এখন পর্যন্ত ,প্যারিসের হয়ে ১৩ ম্যাচে ১৩৪৩ মিনিট খেলেছেন মেসি। এত সময় মাঠে থাকলে লিওনেল মেসি কী করতে পারেন তা হয়ত সকলেরই জানা আছে। আগের মেসি হয়তো প্রতি ১০০ মিনিটে গড়ে অন্তত এক-দুটি গোল করানোর পাশাপাশি গোল করাতেনও কয়েকটি। কিন্তু পরিসংখ্যান  বলছে, ৩৪ পেড়োনো আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের এখন গড়ে প্রায় ১১২ মিনিট দরকার পড়ছে গোলে অবদান রাখতে।

মেসি কি ফুরিয়ে যাচ্ছেন? নাকি শেষ বয়সে আবারো মেসির ঝলক দেখবে ফুটবল বিশ্ব? এটা জানাই এখন সময়ের ব্যাপার।

আরও পড়ুন:

মন্তব্য করুন