শোয়েব আখতার চাকার ছিলেন?

শোয়েব আখতার চাকার ছিলেন? : শোয়েব আখতার, বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুততম বোলার। নিজের দিনে শোয়েব বিশ্বের বাঘা বাঘা ব্যাটারদের গুঁড়িয়ে দিতেন ফাস্ট বোলিংয়ের মাধ্যমে। শোয়েবের ফাস্ট বোলিং পেতেন বিশ্বের অনেক বাঘা বাঘা ব্যাটার।কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২০০৩ সালে তার বোলিং স্পীড ছিল ঘণ্টায় ১৬১.৩৭ কিঃমিঃ (১০০.২৩ মাইল)।

খুব সম্প্রতি, ভারতের সাবেক ওপেনার বীরেন্দ্র শেবাগ বলেছেন যে শোয়েব আখতার নাকি চকার ছিলেন। শোয়েব আখতার চাক করেন কিনা , এ ব্যাপারে প্রথম প্রশ্ন তুলেছিল অস্ট্রেলিয়া।

৯০ এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার টিভি চ্যানেলগুলোতে প্রোগ্রাম হয়েছিলো, শোয়েব আখতারকে নিয়ে। সেখানেই, শোয়েব আখতারের বোলিং নিয়ে সর্বপ্রথম প্রশ্ন উঠেছিল। এমনই এক শো তে, গ্রেগ চ্যাপেল বলেছিলেন শোয়েব আখতারের বোলিং অ্যাকশন সন্দেহজনক। তবে, মাইকেল হোল্ডিং একটি টেলিভিশন শো তে এ বিষয়টি ক্ল্যারিফাই করেছিলেন।

আমাদের সকলের কনুইয়ের হাইপার এক্সটেনশন বলে একটি কথা আছে। আমরা আমাদের হাতকে লম্বাভাবে ছড়াই, তখন আমাদের হাতের ডিগ্রী থাকে ১৮০ ডিগ্রী। কিন্তু, শোয়েব আখতারের ক্ষেত্রে, এদিকে ভীন্নতা রয়েছে। শোয়েব আখতারের এলবো টা হলো হাইপার এক্সটেন্ডেড এলবো। এক্ষেত্রে, তার কনুইটি ১৮০ ডিগ্রী নয়, বরং ১৯০ ডিগ্রী এর দিকে চলে যায়।

খুব অবাক করা বিষয় হলো, সাধারণ মানুষের এলবো এরকম হাইপার এক্সটেনডেড থাকে না। কিন্তু, শোয়েব আখতারের টা প্রাকৃতিকভাবে এমনই। মূলত, সৃষ্টিকর্তা প্রদত্তই শোয়েব আখতারের কনুই এমন।

শোয়েব আখতার চাকার ছিলেন?
১৯৯৯ বিশ্বকাপে শোয়েব

[ শোয়েব আখতার চাকার ছিলেন? ]

এ কারণে, শোয়েব আখতার আসলে যখন ডেলিভারি করতে যেতেন তার কবজি, কাধ এবং কনুইয়ের অবস্থান সোজা থাকতো না। এক্ষেত্রে, আসলে মনে হতে পারে যে শোয়েব আখতার ইচ্ছা করে এমন করছেন। কিন্তু, বিষয়টি আসলে তা নয়। পুরো বিষয়টি একেবারে প্রাকৃতিক এবং এ বিষয়টিই মাইকেল হোল্ডিং তার করা এনালাইসিসে বুঝিয়েছিলেন। স্লো মোশনে দেখলে বিষয়টি পুরোপুরি বোঝা যায় যে শোয়েবের এলবোর হাইপার এক্সটেনশনের কারণে মনে হয় যে তিনি হয়ত বলটিকে চাক করছেন।

এলবোর হাইপার এক্সটেনশন কিন্তু ভারতের একজন বোলার আর পি সিংয়ের ও হতো এবং বিষয়টিও মাইকেল হোল্ডিং তুলে ধরেছিলেন।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে শোয়েবের সমীহ জাগানীয়া পারফর্মেন্সের শুরুটা হয় মূলত ১৯৯৯ সালে ভারতের বিপক্ষে একটি বিশ্বকাপ পূর্ববর্তী সিরিজ থেকে। পরবর্তীতে তিনি তার পারফর্মেন্সের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন শারজাহ এবং ১৯৯৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপেও। এই সময়ই তিনি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত পারফর্মেন্সটি করেন ১৯৯৯ সালের ভারত সফরে ভারতের বিপক্ষে।

যেখানে এশিয়ান টেষ্ট চ্যাম্পিয়ানশীপের এক ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে তিনি ৮ টি উইকেট লাভ করেন। যার মধ্যে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে পর পর দুই বলে তিনি দুই ভারতীয় কিংবদন্তী ব্যাট্সম্যান রাহুল দ্রাবিড় এবং শচীন তেন্ডুলকর কে আউট করেন। এটি ছিল তেন্ডুলকরকে করা তার ক্যারিয়ারের প্রথম বল।

২০০২ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তান দলে ডাক পান এবং সাফল্য লাভ করেন। এ সময় শ্রীলঙ্কায় নিরপেক্ষ ভেন্যুতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেষ্ট ম্যাচে শোয়েব তার ক্যারিয়ার সেরা (৬/১১) বোলিং করেন। কিন্তু বিশ্বকাপে দলের খারাপ ২০০৩ ক্রিকেট বিশ্বকাপ পারফর্মেন্সের বলি হয়ে টুর্নামেন্ট শেষে অন্যদের সাথে তিনিও দল থেকে বাদ পড়েন। যদিও একই বিশ্বকাপে তিনি ইংল্যান্ড এর বিপক্ষে সর্বকালের সর্বোচ্চ গতিতে বল করার বিশ্ব রেকর্ড গড়েন।

শোয়েব আখতার চাকার ছিলেন?
২০০৩ বিশ্বকাপে শোয়েব

পুনঃরায় ২০০৪ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাকে দলে ফেরানো হয়। কিন্তু একই বছর ভারতের বিপক্ষে সিরিজে তার শহর রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত শেষ টেষ্টে তার বিতর্কিত অসুস্থতার জন্য তাকে বেশ ঝামেলায় পড়তে হয়। পরে পাকিস্তানি ক্রিকেট বোর্ড তার ইনজুরির প্রকৃতি নিয়ে তদন্ত করে তাকে অভিযোগ হতে অব্যহতি দেয়। যদিও পরবর্তীকালে তৎকালীন পাকিস্তানি অধিনায়ক ইনজামাম-উল-হক এবং কোচ বব উলমারের সাথে সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় তিনি ২০০৫ সালের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে বিতর্কের জন্য দল থেকে আবার বাদ পড়েন।

তারপর ২০০৫ সালের শেষ দিকে পাকিস্তান দলে শোয়েবের প্রত্যাবর্তন হয়। একই বছর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন টেস্টের হোম সিরিজে তিনি চমৎকার বোলিং করেন। কার্যকরী স্লোয়ার ডেলিভেরির বল ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের ভীষণ সমসস্যায় ফেলে এবং তিনি মরা পিচে ১৭ উইকেট লাভ করেন।

কিন্তু ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের আগেই শোয়েব ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে দল থেকে ছিটকে পড়েন। একই বছর ইংল্যান্ডের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজে ফিরে দুর্দান্ত পারফর্মেন্স করলেও কিছুদিনের মধ্যেই তিনি আরেক সতীর্থ মোহাম্মাদ আসিফ এর সাথে ড্রাগ টেষ্টে পজিটিভ হন।

শোয়েব আখতার চাকার ছিলেন?
২০১১ বিশ্বকাপে শোয়েব

ফলে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ২৯ অক্টোবর ২০০৭ সালে ১৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ থাকার পর শোয়েব আবার ক্রিকেটে ফিরে আসেন। এসেই লাহোরে ওডিআই সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৪৩ রানে ৪ উইকেট তুলে নেন। কিন্তু ২০০৭ সালে টি ২০ বিশ্বকাপের আগে তিনি তার সতীর্থ মোহাম্মাদ আসিফ কে ব্যাট দিয়ে আঘাত করে স্কোয়াড থেকে পুনরায় বাদ পড়েন।

পরবর্তীতে ২০০৮ সালে ভারত সফরে তাকে ১৬ সদেস্যর দলে রাখা হয়। ২০১১ ক্রিকেট বিশ্বকাপে তিনি তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন। একজন দুর্দান্ত বোলারের পরিচয় থাকলেও তার ক্যারিয়ার ছিল বিতর্কিত। অবৈধ ড্রাগ গ্রহণ, অবৈধ বোলিং অ্যাকশন, সতীর্থের সাথে হাতাহাতি করার জন্য তিনি বারবার বিতর্কিত হয়েছেন।

আরও পড়ুন:

মন্তব্য করুন