বাংলাদেশের জন্য টেস্ট ক্রিকেটে চলমান এক লজ্জাজনক অধ্যায়

বাংলাদেশের জন্য টেস্ট ক্রিকেটে চলমান এক লজ্জাজনক অধ্যায় : বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ওয়ানডে ক্রিকেটে সম্প্রতি সময়ে ভালো সময় পাড় করলেও টেস্ট ক্রিকেটে বরাবরই কঠিন সময় পার করছে। সম্প্রতি, আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে খুব একটা ভালো সময় কাটছে না বাংলাদেশের। কেনো যেনো টেস্ট ক্রিকেট থেকে হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতেই পারছে না বাংলাদেশ। বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় ছাড়া বাকি সব টেস্টেই এক প্রকার লজ্জার অবস্থানে পড়েছে বাংলাদেশ টেস্ট দল। এ যেনো টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের জন্য চলমান এক লজ্জাজনক অধ্যায়।

বাংলাদেশের জন্য টেস্ট ক্রিকেটে চলমান এক লজ্জাজনক অধ্যায়
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্টে বাংলাদেশ দল

নিউজিল্যান্ড টেস্ট সিরিজের আগে, ঘরের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ কিংবা নিউজিল্যান্ড সিরিজের পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ দল। এমনকি, ঘরের মাটিতেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এমনকি সম্প্রতি, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এবং চলমান উইন্ডিজ সিরিজে এক ইনিংসে ৬ ব্যাটার ডাক মেরেছে   বাংলাদেশ দলের ।

বাংলাদেশের জন্য টেস্ট ক্রিকেটে চলমান এক লজ্জাজনক অধ্যায়
উইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টেস্টের একটি দৃশ্য

টেস্ট ক্রিকেটে এক ইনিংসে ৬ ব্যাটসম্যানের শূন্য রানে ফেরত যাওয়ার ঘটনা আবারও ঘটাল বাংলাদেশ। পরপর দুই টেস্টে ঘটল এমন কিছু। গত মাসেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের ৬ ব্যাটসম্যান শূন্য রানে ফিরেছিলেন। যদিও সেই টেস্টে মুশফিকুর রহিমের ১৭৫ আর লিটন দাসের ১৪১ বাংলাদেশের মান বাঁচিয়েছিল। দল করেছিল ৩৬৫। কিন্তু কাল অ্যান্টিগার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ গুটিয়ে গেছে ১০৩ রানেই। এর আগে ২০০২ সালে ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই শূন্য রানে ৬ ব্যাটসম্যানকে আউট হতে দেখেছে বাংলাদেশ।

টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এক ইনিংসে ৬ ব্যাটসম্যানের শূন্য রানে ফেরার ঘটনা আছে সাতটি। এর মধ্যে বাংলাদেশেরই এমন ‘কীর্তি’ তিনবার। ১৯৮০ সালে প্রথমবার শূন্য রানে ৬ ব্যাটসম্যান আউট হওয়ার ‘কীর্তি’ পাকিস্তানের ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই। এরপর ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড একবার করে এমন রেকর্ডের মুখোমুখি হয়েছে।

                [     বাংলাদেশের জন্য টেস্ট ক্রিকেটে চলমান এক লজ্জাজনক অধ্যায় ]

অ্যান্টিগায় বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন, নুরুল হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান ও খালেদ আহমেদ শূন্য রানে আউট হন। গত মাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শূন্য রানে আউট হওয়া ৬ ব্যাটসম্যানের মধ্যে এই মাহমুদুল হাসান ও খালেদ আহমেদ ছিলেন। বাকি চারজন ছিলেন তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন ও ইবাদত হোসেন।

২০০২ সালে ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টেস্টে প্রথম ইনিংসে ১৩৯ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৭ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সে ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়া ছয় ব্যাটসম্যান ছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল, অলক কাপালি, খালেদ মাসুদ, এনামুল হক (মনি), তাপস বৈশ্য ও তালহা যুবায়ের। ক্যারিবীয় পেসার জারমেই লসন ৬.৫ ওভার বোলিং করে ৪ মেডেনে মাত্র ৩ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ৬ উইকেট।

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের এ ব্যার্থতার পর পরিবর্তন হয়েছে অধিনায়কের। অফ ফর্মে থাকা ব্যাটার মুমিনুল হককে সরিয়ে নতুন অধিনায়ক করা হয়েছে সুপারস্টার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে। তবুও, উইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে টেস্ট ক্রিকেট থেকে হারের বৃত্ত থেকে বের হতে পারলো না বাংলাদেশ।

অ্যান্টিগায় ৭ উইকেটে হার দিয়ে সিরিজ শুরু হলো বাংলাদেশের। এই টেস্ট যে টাইগাররা হারতে যাচ্ছে প্রথমদিনেই তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তারপরও আশা ছিল, লড়াই পঞ্চমদিন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার।

কিন্তু চতুর্থদিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজে জয় পেতে লাগল মাত্র আধঘণ্টা। দুই ম্যাচের সিরিজেও তারা এগিয়ে গেল ১-০ ব্যবধানে। বাংলাদেশেকে ফের ডুবিয়েছে ব্যাটিং ব্যর্থতা। তবে টস এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে মনে করেন সফরকারীদের অধিনায়ক সাকিব, ‘টস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, তবে আমরা কোনো অভিযোগ করতে পারছি না। উইকেট বেশ ভালো ছিল।’

টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় উইন্ডিজ। এই মাটিতে চার বছর আগে কেমার রোচের তোপে ৪৩ রানে গুটিয়ে গিয়ে লজ্জার রেকর্ড গড়েছিল বাংলাদেশ। যা তাদের টেস্ট ইতিহাসে এক ইনিংসে সর্বনিম্ন স্কোর। এবারও তাড়া করল সেই ভূত। আর এবারও রোচ!

যিনি চোটের কারণে অ্যান্টিগা টেস্টে খেলবেন কিনা তা দু’দিন আগেও অনিশ্চিত ছিল। শেষ পর্যন্ত ফিটনেস পরীক্ষায় পাস করে একদিন আগে দলে ফেরা রোচের আঘাতে শুরুতে দুই উইকেট নেই সফরকারীদের। সাকিবের কাউন্টার-অ্যাটাক ফিফটিতে শেষ পর্যন্ত প্রথম ইনিংস দলীয় শতক। মাত্র ১০৩ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় যে এই টেস্ট থেকে বাংলাদেশকে ছিটকে দিয়েছে। এমনটা মনে করেন সাকিবও, ‘এক সেশনই আমাদের ম্যাচ হত্যা করেছে।’

বাংলাদেশের জন্য টেস্ট ক্রিকেটে চলমান এক লজ্জাজনক অধ্যায়
শরিফুল ইসলাম

এছাড়াও, সাকিব আল হাসান মনে করেন বাংলাদেশের অধিকাংশ ব্যাটারেরই ব্যাটিং টেকনিকে সমস্যা রয়েছে যা শুধরানোর জন্য প্রত্যেক ব্যাটারকেই নিজ থেকেই কাজ করে যেতে হবে। এদিকে, দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আগে বাংলাদেশ দলে যুক্ত হচ্ছেন পেসার শরিফুল ইসলাম। গুঞ্জন রয়েছে, দ্বিতীয় টেস্টে মুস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় দলে যুক্ত হবেন তিনি। এখন, দেখার বিষয় উইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টেও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি সাকিব আল হাসানের দল।

আরও পড়ুন:

 

মন্তব্য করুন